পাহাড়ি স্রোতে সমাধি! তিস্তার গর্ভ থেকে উদ্ধার শিশুসহ চার জনের নিথর দেহ, শোকস্তব্ধ সিকিম

নিজস্ব প্রতিবেদন, শিলিগুড়ি: পাহাড়ের পথে শুক্রবারের সেই অঝোর বৃষ্টি কি কেড়ে নিল চারটি তাজা প্রাণ? করোনেশন সেতুর কাছে তিস্তার উত্তাল জলরাশি থেকে উদ্ধার হওয়া গাড়ি ও তার ভেতর থেকে পাওয়া দেহগুলো যেন সেই মর্মান্তিক প্রশ্নেরই উত্তর দিল। সিকিম থেকে শিলিগুড়িগামী একটি পরিবারের গাড়ি নিখোঁজ হওয়ার দুই দিনের রুদ্ধশ্বাস তল্লাশির অবসান ঘটল রবিবার, যখন তিস্তার বুক চিরে বেরিয়ে এল সেই দুমড়েমুচড়ে যাওয়া গাড়িটি।

পাহাড়ি ঝরনার ‘মৃত্যুফাঁদ’:

গত শুক্রবার বিকেলে ভারী বর্ষণে সেবক ও করোনেশন সেতুর মাঝের ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক পরিণত হয়েছিল মৃত্যুফাঁদে। হঠাৎ পাহাড়ি ঝরনা ফুলেফেঁপে ওঠায় প্রবল জলস্রোত ও ধসের তোড়ে রাস্তা থেকে ছিটকে সোজা তিস্তার গর্ভে তলিয়ে যায় গাড়িটি। উদ্ধারকারীদের মতে, প্রাকৃতিক এই রুদ্ররূপ এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, চালক গাড়ি সামলানোর বিন্দুমাত্র সুযোগ পাননি। শনিবার সকাল থেকেই এনডিআরএফ, সিকিম প্রশাসন ও পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের যৌথ প্রচেষ্টায় চালানো হয় তল্লাশি। অবশেষে রবিবার করোনেশন সেতুর অদূরে মেলে সেই অভিশপ্ত গাড়ির খোঁজ।

নিথর দেহে হাহাকার:

গাড়িটি তিস্তার নিচ থেকে তুলে আনতেই উদ্ধারকারীদের সামনে উঠে আসে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য। ভেতরে আটকে থাকা স্মারিকা নিউজল, সায়েনি নিউজল, টিকা মায়া দাহাল এবং ছোট্ট দিত্যা ছেত্রীর নিথর দেহগুলো যেন মুহূর্তেই পাহাড়ের পুরো পরিবেশকে স্তব্ধ করে দেয়। শিলিগুড়িতে চিকিৎসাধীন এক আত্মীয়কে দেখতে যাওয়ার পথে এমন পরিণতি কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। শেষবার শুক্রবার বিকেলে রোম্বি এলাকায় পৌঁছানোর পর যখন পরিবারের সঙ্গে তাঁদের কথা হয়, তখন কে জানত—এটাই হবে তাদের শেষ কথোপকথন!

সতর্কবার্তায় আতঙ্ক:

পাহাড়ি পথে ভারী বর্ষণ ও ধসের এই মরণফাঁদ যে কোনো সময় প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে, এই ঘটনাটি তারই এক বিষাদময় নজির। প্রকৃতির খেয়ালের কাছে মানুষের এই অসহায় আত্মসমর্পণ এলাকাবাসীকে শোকস্তব্ধ করেছে। পাহাড়ে বৃষ্টির দিনে যাতায়াত কতটা ঝুঁকিপূর্ণ, এই দুর্ঘটনা কি তবে আবারও আমাদের সেই কঠোর বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিল? উত্তরের পাহাড়ের শোকের ছায়া এখন নেমে এসেছে গোটা রাজ্যে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *