মামলা তুলতে তরুণীকে বেধড়ক মারধর! কাউন্সিলরের বাড়ি ঘিরে ফেলল বিশাল পুলিশ বাহিনী

নিজস্ব প্রতিবেদন, কলকাতা: এক নজিরবিহীন ও মর্মান্তিক ঘটনার সাক্ষী থাকল রবিবার সকালের কলেজ স্ট্রিট। পকসো মামলার নথি প্রত্যাহার না করায় এক তরুণীকে প্রকাশ্য রাস্তায় হেনস্তা ও মারধরের অভিযোগ উঠল ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর মহম্মদ জসিমুদ্দিন ও তাঁর অনুগামীদের বিরুদ্ধে। এই ঘটনার পর থেকেই এলাকায় ছড়িয়েছে তীব্র উত্তেজনা।

অমানবিক নির্যাতনের নেপথ্যে:

জানা গিয়েছে, ২০২৩ সালে কাউন্সিলর ও তাঁর দলবলের বিরুদ্ধে পকসো আইনে একটি মামলা দায়ের করেছিল নির্যাতিতার পরিবার। সেই মামলা তুলে নেওয়ার জন্য দীর্ঘ দিন ধরেই তরুণীর পরিবারের ওপর চলছিল লাগাতার চাপ। শনিবার রাতে কলাবাগান এলাকায় একা পেয়ে ওই তরুণীকে শুধু কটূক্তিই নয়, চালানো হয় বেধড়ক মারধর। এমনকী, ঘটনার যাবতীয় প্রমাণ লোপাটের জন্য এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরাগুলোও ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। গুরুতর জখম অবস্থায় ওই তরুণী এখন মধ্য কলকাতার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান:

ঘটনার খবর প্রকাশ্যে আসতেই তৎপর হয়ে ওঠে জোড়াসাঁকো থানা। কাউন্সিলর যাতে কোনোভাবেই গা ঢাকা দিতে না পারেন, তা নিশ্চিত করতে ভোর থেকেই তাঁর বাড়ি ঘিরে ফেলে বিশাল পুলিশ বাহিনী। তল্লাশি চালিয়ে ইতিমধ্যেই জসিমুদ্দিন ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। ‘টক টু মেয়র’ কর্মসূচিতেও এই কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ জমা পড়ার তথ্য সামনে আসায় তাঁর ওপর আইনি খাঁড়া নেমে আসা এখন সময়ের অপেক্ষা বলেই মনে করা হচ্ছে।

শাসকদলের অস্বস্তি ও রাজনীতির সমীকরণ:

সদ্যই ১০১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্তের গ্রেপ্তারি এবং এখন জসিমুদ্দিনের বিরুদ্ধে এই গুরুতর অভিযোগ—রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে এনিয়ে মোট ৬ জন তৃণমূল কাউন্সিলর আইনি জালে জড়ালেন। প্রশাসনের এই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি কি তৃণমূলের অন্দরে বড় কোনো ধস নামাতে চলেছে? কলেজ স্ট্রিটের ঘটনা সেই জল্পনাকেই আরও উসকে দিল। অভিযুক্ত কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে পুলিশি পদক্ষেপের দিকেই এখন তাকিয়ে আছে গোটা শহর।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *