ভাঙন আতঙ্কে দিল্লির পথে মমতা, ‘ইন্ডিয়া’ জোটেই কি তৃণমূলের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ?
নিজস্ব প্রতিবেদন: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে বিপর্যয়ের পর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে অস্বস্তির পারদ ক্রমশ ঊর্ধ্বমুখী। একদিকে লাগাতার দল ভাঙার আতঙ্ক, অন্যদিকে দলের নেতাদের প্রতি সাধারণ মানুষের তীব্র ক্ষোভ—সব মিলিয়ে চরম সংকটে ঘাসফুল শিবির। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে রণকৌশল স্থির করতে সোমবার দিল্লি পাড়ি দিলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গী হয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও।
কেন এই তড়িঘড়ি দিল্লি সফর?
রাজনৈতিক মহলের মতে, রাজ্যে তৃণমূলের জনভিত্তি যে হারে সংকুচিত হচ্ছে, তাতে দল ধরে রাখাটাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। কলকাতা পুরসভা থেকে শুরু করে বিধানসভার অন্দরেও অস্থিরতার আঁচ স্পষ্ট। এমতাবস্থায়, জাতীয় রাজনীতিতে নিজেদের প্রাসঙ্গিকতা টিকিয়ে রাখতে এবং বিজেপির মোকাবিলায় ‘ইন্ডিয়া’ জোটকেই একমাত্র ভরসা হিসেবে দেখছে তৃণমূল। সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, গত লোকসভা নির্বাচনের মতো ‘একের বিরুদ্ধে এক’ নীতিতেই নতুন করে সিলমোহর দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তৃণমূলনেত্রী।
জোটের অন্দরেই নতুন জটিলতা:
তবে বিরোধী ঐক্যের এই ছবিটা খুব একটা মসৃণ নয়। জোটের অন্যতম শরিক বামেদের সাথে কংগ্রেসের সম্পর্কের অবনতি নতুন করে মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেরল বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে বিজেপির সঙ্গে ‘গোপন সমঝোতা’র অভিযোগ তুলেছেন বাম নেতৃত্ব। এই নিয়ে সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি সরাসরি কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গেকে চিঠি দিয়ে নিজের ক্ষোভ জানিয়েছেন।
আগামী দিনের সমীকরণ:
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন সব বিরোধী দলকে এক ছাতার তলায় এনে কেন্দ্রীয় স্তরে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের মঞ্চ তৈরির চেষ্টা করছেন, তখন বাম-কংগ্রেসের এই সংঘাত বিরোধী শিবিরের সমন্বয়ে বড় ধাক্কা দিতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। মঙ্গলবার দিল্লিতে বিরোধী শরিকদের সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই বৈঠকই ঠিক করে দেবে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের পরবর্তী দিশা এবং তৃণমূলের টিকে থাকার নতুন রণকৌশল।
এখন দেখার বিষয়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই দিল্লি সফর কতটা ভাঙন রোধ করতে পারে এবং জোটের অন্দরের এই অস্বস্তির মেঘ আদৌ কাটবে কি না। নজর এখন বৈঠকের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে।