সেপটিক ট্যাঙ্ক পরিষ্কার করতে নেমে প্রাণ গেল ৪ শ্রমিকের, কাঠগড়ায় মালিকপক্ষ
নিজস্ব প্রতিবেদন, সুরাট: চরম গাফিলতির বলি হলেন চার শ্রমিক! গুজরাটের সুরাটের অশ্বিনী কুমার এলাকার একটি কারখানায় সেপটিক ট্যাঙ্ক পরিষ্কার করতে নেমে বিষাক্ত গ্যাসের কবলে পড়ে মর্মান্তিক মৃত্যু হলো চার শ্রমিকের। রবিবার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় শোকের ছায়া ও তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।
কীভাবে ঘটল এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা?
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কারখানাটির ওই সেপটিক ট্যাঙ্কে গয়না পরিষ্কারে ব্যবহৃত বিষাক্ত রাসায়নিক বর্জ্য জমা রাখা হতো। প্রতি দু’মাস অন্তর নিয়মমাফিক তা পরিষ্কার করা হলেও, এবারের ঘটনায় ঘটল বড়সড় বিপত্তি। ট্যাঙ্কের ভেতরে থাকা প্রাণঘাতী গ্যাসের কারণেই শ্রমিকরা শ্বাসরুদ্ধ হয়ে জ্ঞান হারান। খবর পেয়ে দমকল বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে চার শ্রমিককে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়, কিন্তু চিকিৎসকরা তাঁদের মৃত বলে ঘোষণা করেন।
নিরাপত্তাবিধিতে চরম গাফিলতি:
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অভিযোগ, শ্রমিকদের সুরক্ষার ক্ষেত্রে কারখানার কর্তৃপক্ষ কোনো যথাযথ বিধিই পালন করেনি। ট্যাঙ্কে নামার সময় শ্রমিকদের কাছে ছিল না কোনো ধরনের সুরক্ষা সরঞ্জাম বা অক্সিজেন মাস্ক—যা আইনত বাধ্যতামূলক। অমানবিক এই পরিস্থিতির জন্য কারখানার মালিকপক্ষের দিকেই আঙুল তুলছেন স্থানীয়রা।
পুলিশি পদক্ষেপ:
ঘটনার পরই নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। পুলিশ ইতিমধ্যেই কারখানার কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যুর মামলা রুজু করেছে। কারখানার সুপারভাইজারের বয়ান রেকর্ড করার পাশাপাশি সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শ্রমিকদের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে দেহগুলি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলেই দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।
এই দুর্ঘটনা আবারও শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকদের সুরক্ষার অভাব ও প্রশাসনিক নজরদারির সীমাবদ্ধতাকে চূড়ান্তভাবে প্রকাশ্যে নিয়ে এল। নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘন করে শ্রমিকদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগে মালিকপক্ষের শাস্তি দাবি করছেন সচেতন মহল।