জরায়ুমুখের ক্যান্সার: প্রতি ৮ মিনিটে এক প্রাণহানি! সচেতনতা ও টিকাকরণই বাঁচার পথ

নিজস্ব প্রতিবেদন: নারী স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে এক নীরব ঘাতক হয়ে দাঁড়িয়েছে সারভাইকাল বা জরায়ুমুখের ক্যান্সার। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে এক উদ্বেগজনক তথ্য—প্রতি ৮ মিনিটে একজন করে মহিলার মৃত্যু হচ্ছে এই মারণরোগে। আগে কেবল বয়স্ক মহিলাদের এই রোগের ঝুঁকি থাকলেও, বর্তমানে তরুণীদের মধ্যেও আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। চিকিৎসকদের মতে, সঠিক সময়ে সচেতনতা এবং টিকাকরণই পারে এই ঝুঁকি কমাতে।

কেন হয় এই ক্যান্সার?

মূলত ‘এইচপিভি’ (HPV – Human Papillomavirus) নামক এক ভাইরাসের সংক্রমণের ফলেই এই ক্যান্সার হয়। যৌন সংসর্গের মাধ্যমে এই ভাইরাস ছড়ায়। এইচপিভির প্রায় ২০০টি ধরন রয়েছে, যার মধ্যে কিছু নির্দিষ্ট ধরন দীর্ঘস্থায়ী সংক্রমণের মাধ্যমে জরায়ুমুখের ক্যান্সার ঘটাতে পারে।

ঝুঁকির কারণসমূহ:

চিকিৎসক ডাঃ মীরা পাঠকের মতে, কিছু নির্দিষ্ট কারণে এই ক্যান্সারের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়:

  • অল্প বয়সে যৌন সংসর্গে লিপ্ত হওয়া।
  • অল্প বয়সে ঋতুস্রাব শুরু হওয়া বা দেরিতে ঋতুস্রাব বন্ধ হওয়া (মেনোপজ)।
  • একাধিক যৌনসঙ্গী থাকা।
  • একাধিক সন্তানের জন্ম দেওয়া।
  • ধূমপান ও মদ্যপানের মতো অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন।
  • দীর্ঘমেয়াদী জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল সেবন।

যেসব লক্ষণ এড়িয়ে যাবেন না:

শরীরে রোগের উপস্থিতি বোঝাতে কিছু বিশেষ লক্ষণ দেখা দেয়, যা অবহেলা করা একদম উচিত নয়:

  • ঋতুস্রাবের সময় বা যৌনমিলনের পর যোনিপথে অস্বাভাবিক রক্তপাত।
  • যোনিপথে অস্বাভাবিক ও দুর্গন্ধযুক্ত স্রাব।
  • হঠাৎ ওজন কমে যাওয়া।
  • পিঠ বা কুঁচকিতে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা।
  • প্রস্রাবে সমস্যা বা কোষ্ঠকাঠিন্যের দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা।

প্রতিরোধ ও টিকাকরণ:

২১ বছর বয়সের পর থেকে নিয়মিত বিরতিতে ‘প্যাপ স্মিয়ার টেস্ট’ (PAP Smear Test) করানো অত্যন্ত জরুরি। কোনো অস্বাভাবিকতা ধরা পড়লে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী কলোপস্কপি বা বায়োপসি করা উচিত।

রাজ্য সরকার সারভাইকাল ক্যান্সার রুখতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। বর্তমানে রাজ্যে বিনামূল্যে এইচপিভি ভ্যাকসিন প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ১৪ বছর বয়সী কিশোরীদের একটি ডোজ নেওয়া খুবই কার্যকর। এছাড়া ১৫ থেকে ৪৫ বছর বয়সীদের মোট ৩টি ডোজ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। সময়মতো এই টিকা গ্রহণ ও স্ক্রিনিংয়ের মাধ্যমেই এই মারণরোগকে প্রতিরোধ করা সম্ভব।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *