সাবধান! রাস্তায় পানের পিক বা নোংরা ফেললেই এবার মোটা জরিমানা, শুরু হচ্ছে কঠোর আইন
নিজস্ব প্রতিবেদন: রাস্তাঘাটে যত্রতত্র আবর্জনা ফেলা বা পানের পিক ফেলার অভ্যাস এবার বন্ধ করতে উদ্যোগী রাজ্য সরকার। আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে রাজ্যে শুরু হতে চলেছে এক কঠোর পরিচ্ছন্নতা অভিযান। এই নতুন নিয়ম কার্যকর করার আগে নাগরিকদের সচেতন হতে ৩ মাসের ‘গ্রেস পিরিয়ড’ বা সময়সীমা দেওয়া হয়েছে।
অভিযানের মূল লক্ষ্য ও পদক্ষেপ:
- কঠোর জরিমানা: আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে মিউনিসিপ্যাল অ্যাক্টের আওতায় কড়া আর্থিক জরিমানা ধার্য করা হবে। রাস্তায় পানের পিক ফেলা, প্লাস্টিক ক্যারিব্যাগ ব্যবহার বা যত্রতত্র আবর্জনা ফেলার মতো অভ্যাসগুলো বন্ধ করতেই এই উদ্যোগ।
- পরিকাঠামোর উন্নয়ন: শুধু জরিমানা নয়, শহরকে পরিষ্কার রাখতে প্রতি ১০০ মিটার অন্তর আধুনিক ডাস্টবিন বসানো হচ্ছে। ফলে ‘ডাস্টবিন পাওয়া যায়নি’ বলে সাফাই গাওয়ার সুযোগ আর থাকছে না।
- স্বচ্ছ অ্যাপের (Swachha App) ব্যবহার: সাধারণ মানুষ যাতে পুরসভাকে জঞ্জাল জমার খবর দ্রুত জানাতে পারেন, তার জন্য আসছে এই অ্যাপ। রাস্তার কোথাও জঞ্জাল জমে থাকলে তার ছবি তুলে অ্যাপে আপলোড করলেই জিও-ট্যাগিং প্রযুক্তির মাধ্যমে তা সরাসরি পুরসভার কন্ট্রোল রুমে পৌঁছে যাবে। এরপর ২ ঘণ্টার মধ্যে সেই আবর্জনা সাফ করার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে রাজ্যের ১০টি পুরসভায় এই পাইলট প্রজেক্ট শুরু হবে।
- প্লাস্টিক বর্জনে জোর: একবার ব্যবহারযোগ্য বা সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিকের ওপর কড়া নজর দেওয়া হচ্ছে। বাজারের বিভিন্ন জায়গায় কাপড়ের ব্যাগের স্বয়ংক্রিয় ভেন্ডিং মেশিন বসানো হবে।
- মহিলাদের শৌচাগার: শহরের প্রতি ২ কিলোমিটারে এবং হাইওয়েতে প্রতি ১০ কিলোমিটারে মহিলাদের জন্য আধুনিক শৌচাগার তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনের বার্তা:
পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানিয়েছেন, নাগরিকদের সচেতন করতেই এই ৩ মাসের সময়সীমা দেওয়া হয়েছে। এরপর থেকে আইন নিজের নিয়মেই চলবে। দীর্ঘদিনের এই ‘নোংরা মানসিকতা’ পরিবর্তনের লক্ষ্যে এটি একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে প্রশাসনিক কঠোরতা ও আধুনিক পরিকাঠামো তৈরির পাশাপাশি এই উদ্যোগের সফল রূপায়ণ অনেকাংশেই নির্ভর করছে নাগরিকদের মানসিকতা বদলের ওপর। ১ সেপ্টেম্বর থেকে এই নিয়ম চালু হওয়ার পর রাজ্যের শহরগুলো কতটা পরিষ্কার থাকে, এখন সেদিকেই নজর থাকবে সকলের।