মমতার হাত থেকে কি তবে ফসকে গেল তৃণমূল?

লোকসভা নির্বাচনের পরেই পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসে বড় ধরনের ভাঙনের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। বারাসাতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার দাবি করেছেন, তাঁদের সঙ্গে ২০ জন সাংসদ রয়েছেন এবং তাঁরাই আসল তৃণমূল কংগ্রেস। এনডিএ-তে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দল ও প্রতীকের আইনি বৈধতা নিয়ে তাঁরা ভারতের নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছেন। কাকলি ঘোষ দস্তিদার জানিয়েছেন, এই পরিকল্পনা রাতারাতি নেওয়া হয়নি, বরং দুই বছরের দীর্ঘ প্রস্তুতির ফসল এটি। এছাড়া তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁদের সঙ্গে নেই এবং তাঁর বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

মহারাষ্ট্রের শিবসেনা সংকটের ঘটনার সঙ্গে এই পরিস্থিতির তুলনা করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। মহারাষ্ট্র বিধানসভার স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক নজির যেভাবে দল ও প্রতীক উদ্ধব ঠাকরের হাত থেকে একনাথ শিন্ডের অনুকূলে চলে গিয়েছিল, এ ক্ষেত্রেও একই অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। কমিশন যদি এই ২০ জন সাংসদের দাবিকে মান্যতা দেয়, তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন অংশটি দল ও ঘাসফুল প্রতীক হাতছাড়া হওয়ার ঝুঁকিতে পড়তে পারে। এর ফলে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে মেরুকরণ ও অস্তিত্বের সংকটে পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *