পরের জন্মে আপনি কী হবেন? গরুড় পুরাণ যা বলছে!

হিন্দু শাস্ত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ ‘গরুড় পুরাণ’-এ মৃত্যুর পর আত্মার গতিপ্রকৃতি এবং পুনর্জন্মের রহস্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। ভগবান বিষ্ণুর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মৃত্যুর পর আত্মার গন্তব্য এবং পরবর্তী জন্ম সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করে একজন মানুষ তার জীবদ্দশায় কী ধরনের কর্ম করেছেন তার ওপর। প্রাণবায়ু নির্গত হওয়ার পর যমদূতেরা আত্মাকে যমলোকে নিয়ে যায়, যেখানে চিত্রগুপ্ত পাপ ও পুণ্যের হিসাব করেন এবং সেই অনুযায়ী আত্মার ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হয়।

গরুড় পুরাণ অনুযায়ী, যারা সারাজীবন সৎ কাজ ও মানুষের সেবা করে এবং ঈশ্বরে ভক্তি রাখেন, তারা স্বর্গলোকে বাস করার পর পুনরায় মানবদেহ লাভের সুযোগ পান। অন্যদিকে, যারা অন্যের ক্ষতি বা প্রতারণা করেছেন, তাদের পাপের প্রায়শ্চিত্ত হিসেবে বিভিন্ন কষ্ট ভোগ করতে হয়। এমনকি পাপের মাত্রা অনুযায়ী তাদের পশুপাখি, কীটপতঙ্গ বা গাছপালা হিসেবে জন্ম নিতে হতে পারে এবং ৮৪ লক্ষ যোনি ভ্রমণ শেষে তবেই পুনরায় মানবদেহ পাওয়ার সুযোগ আসে। মূলত, মানুষের বর্তমান জীবন পূর্বজন্মের কৃতকর্মের ফল এবং মৃত্যুর পর পার্থিব সবকিছুর ঊর্ধ্বে কেবল ‘কর্মফল’ই আত্মার সঙ্গী হয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *