মিড ডে মিল থেকে ডিম কি তবে বিতাড়িত!
দেশের ২৮টি রাজ্য ও ৮টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মধ্যে বর্তমানে মাত্র ১৪টি স্থানের সরকারি স্কুলে মিড-ডে মিলে শিশুদের ডিম দেওয়া হয়। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের কাছে ‘সুপারফুড’ হিসেবে বিবেচিত ডিমের এই অনুপস্থিতি নিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। বিজেপি ও তাদের জোটসঙ্গীদের শাসিত ২২টি রাজ্যের মধ্যে বর্তমানে মাত্র ৫টি রাজ্যে (আসাম, ওড়িশা, উত্তরাখণ্ড, বিহার এবং মহারাষ্ট্র) নিয়মিত ডিম দেওয়া হচ্ছে, যদিও মহারাষ্ট্রে এই ব্যবস্থার জন্য স্কুলগুলোকে নিজস্ব উদ্যোগে তহবিল সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে। এর বিপরীতে দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলিতে সরকার পরিবর্তন সত্ত্বেও শিশুদের পুষ্টির খাতিরে ডিমের মেনু অটুট রয়েছে।
ডিম নিয়ে বিভিন্ন রাজ্যে রাজনৈতিক ও আদর্শগত মতপার্থক্য স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করা গেছে। ছত্তিশগড়ে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর ডিমের পরিবর্তে মিলেট-ভিত্তিক কর্মসূচিতে জোর দেওয়া হয়েছে। এছাড়া গোয়া ও মধ্যপ্রদেশের মতো রাজ্যগুলোতেও অতীতে ডিম চালুর উদ্যোগ নিলেও ধর্মীয় ও রাজনৈতিক কারণে তা কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। এই পরিস্থিতিতে পুষ্টিবিদরা সতর্ক করছেন যে, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ নিউট্রিশনের তথ্য অনুযায়ী ডিম প্রোটিনের সবচেয়ে সাশ্রয়ী ও কার্যকর উৎস। ডিমের প্রোটিনের জৈব-উপলব্ধতা প্রায় ৯৪ শতাংশ, যা অন্যান্য উদ্ভিজ্জ উৎসের চেয়ে অনেক বেশি। শিশুর মস্তিষ্ক বিকাশ ও শারীরিক বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও অ্যামিনো অ্যাসিডের এই প্রধান উৎসটি মেনু থেকে বাদ পড়ায় শিশুদের পুষ্টির ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।