নেতাজিকে ভারতের জাতীয় পুত্র ঘোষণার দাবি খারিজ করল সুপ্রিম কোর্ট

ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম মহানায়ক নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর সম্মান ও স্বীকৃতি সংক্রান্ত একটি জনস্বার্থ মামলায় বড় রায় দিল সুপ্রিম কোর্ট। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, নেতাজিকে ‘জাতীয় পুত্র’ হিসেবে ঘোষণা করার কোনো আইনি সুযোগ নেই। বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এই সংক্রান্ত আবেদনটি খারিজ করে আবেদনকারীকে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন।

আদালতের পর্যবেক্ষণ ও পিটিশন খারিজের কারণ

আদালতে দাখিল করা ওই আবেদনে দাবি করা হয়েছিল যে, আজাদ হিন্দ ফৌজের বীরত্বেই ভারত স্বাধীনতা পেয়েছে। তাই সুভাষচন্দ্র বসুকে ‘জাতীয় পুত্র’ খেতাব দিতে হবে। একই সঙ্গে ২১ অক্টোবর (আজাদ হিন্দ ফৌজ গঠন দিবস) এবং ২৩ জানুয়ারি (নেতাজির জন্মদিন)-কে জাতীয় দিবস হিসেবে ঘোষণা করার আর্জি জানানো হয়। তবে সুপ্রিম কোর্ট এই দাবিগুলো প্রত্যাখ্যান করার ক্ষেত্রে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো তুলে ধরে:

  • আদালতের বিচার্য বিষয় নয়: বিচারপতিরা সাফ জানিয়েছেন, কাউকে কোনো বিশেষ সম্মানীয় উপাধি বা খেতাব দেওয়ার বিষয়টি আদালতের এক্তিয়ারভুক্ত নয়। এটি সম্পূর্ণভাবে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং সরকারের নীতিগত বিষয়।
  • প্রচার পাওয়ার চেষ্টা: আদালত মনে করছে, জনস্বার্থের নাম করে কেবল প্রচার পাওয়ার উদ্দেশ্যেই এই ধরনের আবেদন করা হয়েছে। এর আগেও একই ধরনের পিটিশন খারিজ করা হয়েছিল।
  • আইনি হস্তক্ষেপের সীমাবদ্ধতা: আদালত জানিয়েছে যে, ঐতিহাসিক মহাপুরুষদের সম্মান বা জাতীয় দিবস ঘোষণার মতো বিষয়গুলো নিয়ে আইনি লড়াইয়ের কোনো ভিত্তি নেই।

আবেদনকারীকে কঠোর সতর্কতা

মামলা চলাকালীন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত আবেদনকারীর প্রতি তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। বারবার একই ধরনের ‘ভিত্তিহীন’ পিটিশন দাখিল করার জন্য আদালত থেকে কড়া হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। আদালত সাফ জানিয়েছে যে, ভবিষ্যতে এই ধরনের অযৌক্তিক আবেদন করা হলে বড় অঙ্কের জরিমানা এবং আইনি ব্যবস্থার সম্মুখীন হতে হবে। এমনকি সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রিকেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন ভবিষ্যতে এই ধরনের আবেদন গ্রহণ না করা হয়।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বনাম প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত

নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর অবদান ভারতীয় ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা রয়েছে। তবে আদালতের মতে, সেই অবদানকে সম্মান জানানোর মাধ্যম কোনো আইনি ঘোষণা হতে পারে না। ১৯৪৩ সালের ২১ অক্টোবর সিঙ্গাপুরে আজাদ হিন্দ সরকার প্রতিষ্ঠার কথা এবং ১৮৯৭ সালের ২৩ জানুয়ারি তার জন্মের গুরুত্ব অনস্বীকার্য হলেও, সেগুলোকে ‘জাতীয় দিবস’ করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কেবলমাত্র কেন্দ্রীয় সরকারের হাতেই ন্যস্ত।

একঝলকে

  • নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে ‘জাতীয় পুত্র’ ঘোষণার দাবি নাকচ করল সুপ্রিম কোর্ট।
  • ২১ অক্টোবর এবং ২৩ জানুয়ারিকে জাতীয় দিবস ঘোষণার আর্জিও খারিজ হয়েছে।
  • আদালত জানিয়েছে, খেতাব দেওয়ার বিষয়টি বিচারবিভাগের অধীনে পড়ে না।
  • ভিত্তিহীন আবেদনের জন্য আবেদনকারীকে জরিমানা করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিচারপতিরা।
  • ভবিষ্যতে এই ধরনের কোনো পিটিশন গ্রহণ না করতে রেজিস্ট্রিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *