অশান্তি রুখতে কমিশনের জিরো টলারেন্স নীতি, চরম হুঁশিয়ারি পুলিশ সুপারদের
ভোট পরবর্তী হিংসার রক্তপাত ও অশান্তি থামাতে নজিরবিহীন কঠোর অবস্থান নিল নির্বাচন কমিশন। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অশান্তির খবর আসার পরই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করে পুলিশ প্রশাসনকে কড়া বার্তা দিয়েছেন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক। স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, এলাকায় অশান্তি দমনে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সুপার (এসপি) বা পুলিশ কমিশনারদের বিরুদ্ধেই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অশান্তিকারীদের গ্রেফতার ও টহলদারির নির্দেশ
রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ সুপার ও পুলিশ কমিশনারদের সশরীরে এলাকায় নেমে টহল দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, অশান্তি সৃষ্টিকারীদের চিহ্নিত করে অবিলম্বে বিশেষ অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করতে হবে। কোনোভাবেই হিংসা বরদাস্ত করা হবে না। উল্লেখ্য, একটি এলাকায় থানার ওসির ওপর গুলি চালানোর ঘটনায় কমিশন অত্যন্ত ক্ষুব্ধ। এই ঘটনায় অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতারের নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি রাজ্যের মুখ্য সচিব ও পুলিশ মহাপরিচালকের (ডিজি) সঙ্গে বৈঠক করেছেন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক।
প্রশাসনের দায়বদ্ধতা ও সম্ভাব্য প্রভাব
সোমবার ফল প্রকাশের পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে রাজনৈতিক সংঘর্ষের খবর আসতে শুরু করেছে। শাসক ও বিরোধী—উভয় পক্ষের কার্যালয় ভাঙচুর ও কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এমনকি প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। এই পরিস্থিতিতে পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় কমিশন সরাসরি দায়বদ্ধতা নির্দিষ্ট করে দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কমিশনের এই কড়া বার্তার ফলে জেলা প্রশাসনের ওপর চাপ বহুগুণ বেড়ে গেল। সরাসরি আইপিএস অফিসারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়ায় মাঠ পর্যায়ে পুলিশের তৎপরতা বৃদ্ধি পাবে এবং রাজনৈতিক সংঘাত প্রশমিত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এখন দেখার, এই নির্দেশের পর পরিস্থিতির কতটা উন্নতি ঘটে।