রথের রশি ছুঁলেই ধুয়ে যায় সব পাপ, এর নেপথ্যে কি সত্যিই কোনো অলৌকিক রহস্য আছে?
ওড়িশার পুরীতে জগন্নাথ দেবের রথযাত্রাকে কেন্দ্র করে এখন চলছে চূড়ান্ত প্রস্তুতি। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস অনুযায়ী, রথের রশি স্পর্শ করলে বা টানলে জীবনের সমস্ত পাপ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যায়, রথকে মানবদেহের প্রতীক হিসেবে গণ্য করা হয়, যেখানে ঘোড়াগুলো পঞ্চ ইন্দ্রিয়ের এবং নিয়ন্ত্রণকারী রশিটি মনের প্রতিনিধিত্ব করে। রথের রশি টানার মাধ্যমে ভক্তরা নিজেদের অহংকার ত্যাগ করে শরীর ও মনকে ঈশ্বরের চরণে সমর্পণ করেন, যা তাদের সঙ্গে ভগবানের আত্মিক যোগসূত্র স্থাপন করে।
স্কন্দপুরাণ, বামদেব সংহিতা ও সূতসংহিতার মতো প্রাচীন গ্রন্থ অনুযায়ী, রথযাত্রায় অংশ নেওয়া অশ্বমেধ যজ্ঞের সমান পুণ্যফল প্রদান করে এবং ভক্তকে জন্মান্তর থেকে মুক্তি দেয়। পুরীর মূল রথযাত্রায় তিনটি রথ ব্যবহৃত হয়, যার মধ্যে বলরামের রথ ‘তালধ্বজ’ (৪৪ ফুট), সুভদ্রার রথ ‘দর্পদলন’ (৪৩ ফুট) এবং জগন্নাথদেবের রথ ‘নন্দীঘোষ’ (৪৫ ফুট)। প্রতিটি রথ বিশেষ উচ্চতা ও গঠনশৈলীর মাধ্যমে নির্মিত হয়, যার মধ্যে নন্দীঘোষ রথটি উচ্চতায় সবচেয়ে বড়।