১৮ এপ্রিল মধ্যরাতের সেই ইমেলে কী ছিল? আইপ্যাক নিয়ে জল্পনার মাঝে চাঞ্চল্যকর তথ্য!
পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের ভোটকুশলী সংস্থা আইপ্যাক-এর কাজ চালানো নিয়ে তীব্র জল্পনা তৈরি হয়েছে। গত ১৮ এপ্রিল মধ্যরাতে কর্মীদের কাছে পাঠানো একটি অভ্যন্তরীণ মেইলে সংস্থাটি তাদের কার্যপ্রক্রিয়ায় আমূল পরিবর্তনের নির্দেশ দিয়েছে। এতে অবিলম্বে কর্মীদের একটি বড় অংশকে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ বা বাড়ি থেকে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং অফিশিয়াল ইমেল আইডি ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। যদিও তৃণমূলের পক্ষ থেকে আইপ্যাক-এর কাজ বন্ধ হওয়ার খবরকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বিরোধীদের রটনা বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
কার্যপ্রক্রিয়ায় বদল ও আইনি জটিলতা
সংস্থাটি তাদের কর্মীদের জানিয়েছে, ‘অন্তর্বর্তী আইনগত কারণ’-এর জেরেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং আগামী ১১ মে পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গে বর্তমান প্রোটোকলে কাজ স্থগিত থাকবে। অফিশিয়াল চ্যানেলে যোগাযোগ বন্ধ রাখার পাশাপাশি স্টেকহোল্ডারদের সাথে কথোপকথনেও সতর্কতা অবলম্বনের কথা বলা হয়েছে। সম্প্রতি কয়লা পাচার মামলায় ইডি-র পক্ষ থেকে আইপ্যাক-এর পরিচালক ভিনেশ চান্দেলকে গ্রেফতার এবং সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা প্রতীক জৈনের বাসভবনে তল্লাশি চালানোর ঘটনা এই জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে।
তৃণমূলের অবস্থান ও রাজনৈতিক প্রভাব
পরিস্থিতি সামাল দিতে ময়দানে নেমেছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন যে, আইপ্যাক কর্মীদের প্রয়োজনে দলের সঙ্গে যুক্ত করে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। তৃণমূলের দাবি, নির্বাচনের মুখে দলের প্রচার কৌশলে বাধা সৃষ্টি করতেই বিজেপি কেন্দ্রীয় সংস্থাকে ব্যবহার করে এই ষড়যন্ত্র করছে। তবে ভোটের মুখে ভোটকুশলী সংস্থার এমন টালমাটাল অবস্থা শাসক শিবিরের নির্বাচনী প্রচার ও অভ্যন্তরীণ সমন্বয়ে সাময়িক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
এক ঝলকে
- আইপ্যাক কর্মীদের মধ্যরাতে ইমেল পাঠিয়ে ১৮ এপ্রিল থেকে কার্যপ্রক্রিয়ায় বড় বদলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
- কর্মীদের একটি বড় অংশকে বাড়ি থেকে কাজ করার নির্দেশ এবং অফিশিয়াল ইমেল ব্যবহারে বিধিনিষেধ জারি।
- সংস্থার পরিচালক গ্রেফতার ও আইনি তদন্তের চাপে আগামী ১১ মে পর্যন্ত কাজ আংশিক স্থগিতের ইঙ্গিত।
- তৃণমূল কংগ্রেস বিষয়টিকে বিজেপির ষড়যন্ত্র বলে দাবি করে আইপ্যাক কর্মীদের চাকরির আশ্বাস দিয়েছে।