পুনর্বিবাহ করলেও প্রথম স্বামীর দুর্ঘটনার ক্ষতিপূরণ পাবেন স্ত্রী! যুগান্তকারী রায় তেলেঙ্গানা হাইকোর্টের
মৃত স্বামীর দুর্ঘটনার ক্ষতিপূরণ পাওয়ার ক্ষেত্রে স্ত্রীর পুনর্বিবাহ কোনো বাধা হতে পারে না বলে এক ঐতিহাসিক রায় দিয়েছে তেলেঙ্গানা হাইকোর্ট। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, একজন নারী দ্বিতীয়বার বিয়ে করেছেন মানেই এই নয় যে প্রথম স্বামীর মৃত্যুতে তার হওয়া আর্থিক ও মানসিক ক্ষতি পূরণ হয়ে গেছে। বিচারপতি এম.জি. প্রিয়দর্শিনী এই মামলার পর্যবেক্ষণে বলেন, স্বামী বেঁচে থাকলে পুনর্বিবাহের প্রশ্নই আসত না, তাই দুর্ঘটনার কারণে প্রাপ্য আইনগত অধিকার থেকে তাকে বঞ্চিত করা যাবে না।
আইনি অধিকার ও সামাজিক নিরাপত্তা
২০০০ সালের একটি সড়ক দুর্ঘটনার প্রেক্ষিতে এই মামলার সূত্রপাত হয়। মৃত ব্যক্তির মা তার পুত্রবধূর ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অধিকারকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে আবেদন করেছিলেন। তার যুক্তি ছিল, স্বামী মারা যাওয়ার মাত্র ১০ মাসের মধ্যে পুত্রবধূ পুনরায় বিয়ে করেছেন, তাই তিনি আর ক্ষতিপূরণের দাবিদার নন। তবে আদালত এই যুক্তি খারিজ করে দিয়ে জানায়, মোটর যান আইনের ১৬৬ ধারা অনুযায়ী মৃত ব্যক্তির সমস্ত বৈধ উত্তরাধিকারী ক্ষতিপূরণ পাওয়ার যোগ্য এবং পুনর্বিবাহের কারণে এই অধিকার বিলুপ্ত হয় না।
মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি ও আদালতের পর্যবেক্ষণ
রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে যে, পুনর্বিবাহের মাধ্যমে একজন নারী আগের স্বামীর থেকে পাওয়া সামাজিক মর্যাদা বা নিরাপত্তা ফিরে পাবেন কি না, তা অনিশ্চিত। আদালত মনে করে, সড়ক দুর্ঘটনায় প্রিয়জনকে হারানোর ফলে যে শূন্যতা তৈরি হয়, তা পুনর্বিবাহের মাধ্যমে সম্পূর্ণ পূরণ করা সম্ভব নয়। ফলে ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক নির্ধারিত ক্ষতিপূরণের অর্থ ওই নারীর আইনি প্রাপ্য হিসেবেই গণ্য হবে। এই রায়ের ফলে পুনর্বিবাহ করা বিধবা নারীদের আইনি ও আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত হলো।
এক ঝলকে
- স্বামীর মৃত্যুর পর পুনর্বিবাহ করলেও প্রথম স্বামীর দুর্ঘটনার বিমাদাবি বা ক্ষতিপূরণ পাবেন স্ত্রী।
- মোটর যান আইনের ১৬৬ ধারা অনুযায়ী বৈধ উত্তরাধিকারী হিসেবে এই অধিকার সুরক্ষিত থাকবে।
- তেলেঙ্গানা হাইকোর্ট জানিয়েছে, পুনর্বিবাহ প্রথম স্বামীর মৃত্যুজনিত আর্থিক ক্ষতির বিকল্প হতে পারে না।
- শাশুড়ির দায়ের করা আবেদন খারিজ করে পুত্রবধূর ক্ষতিপূরণের অধিকার বহাল রেখেছে আদালত।