চিরাচরিত রাজনীতিকে বিদায়, জেন জ়ি আন্দোলনের অভাবনীয় সাফল্য!
দেশের বর্তমান প্রজন্মের বা ‘জেন জ়ি’ (Gen Z)-এর আন্দোলন চিরাচরিত রাজনৈতিক আন্দোলনের সংজ্ঞাকে বদলে দিয়েছে। দিল্লি থেকে কলকাতা—প্রতিবাদের প্রতিটি ক্ষেত্রে দেখা গেছে উদ্ভাবনী কৌশল। পুলিশের জলকামান, ব্যারিকেড বা লাঠিচার্জের মোকাবিলায় তারা ব্যবহার করেছে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়া, ‘রেন ডান্স’, কিংবা দড়ি টানাটানির মতো ছকভাঙা উপায়। তাদের এই স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলনে একদিকে যেমন কোনো রাজনৈতিক দল আধিপত্য বিস্তার করতে পারেনি, তেমনই সরকারও তাদের দমনের পুরোনো কোনো কৌশল প্রয়োগ করে সফল হয়নি। জেন জ়ি প্রজন্মের এই আন্দোলনের মাধ্যমেই কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।
বর্তমানে ‘ই–২০ জনতা পার্টি’-র ব্যানারে পেট্রলে ইথানল মেশানোর প্রতিবাদে নতুন আন্দোলন গড়ে তুলছে এই প্রজন্ম, যার লক্ষ্য এখন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নীতিন গড়কড়ি। প্রথাগত পোস্টারের বদলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), আইপ্যাড, গিটার এবং সৃজনশীল বাদ্যযন্ত্রের মাধ্যমে তারা দুর্নীতির বিরুদ্ধে বার্তা ছড়াচ্ছে। আন্দোলনকারী ও বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলের প্রতি অনাস্থা থেকেই এই যুবসমাজ দলমত নির্বিশেষে সাধারণ পরিচিতিতে প্রতিবাদে শামিল হয়েছে। তবে এই আন্দোলনকে ঘিরে শাসক ও বিরোধী শিবিরে ভিন্নমত লক্ষ্য করা গেছে; কেউ একে সফল স্বতঃস্ফূর্ত বিদ্রোহ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ বা একে বিদেশি মদতপুষ্ট নৈরাজ্য বলে দাবি করছেন।