ভোটের আগে রণক্ষেত্র কলকাতা! ৫ বাহিনীর শীর্ষকর্তাদের মেগা বৈঠক ঘিরে বিস্ফোরক মহুয়া-সাকেত

বাংলার বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কলকাতায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর শীর্ষ কর্তাদের এক রুদ্ধদ্বার বৈঠক ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র উত্তজনা সৃষ্টি হয়েছে। সিআরপিএফ, বিএসএফ, সিআইএসএফ, আইটিবিপি এবং এসএসবি-র উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের এই সমাবেশকে কেন্দ্র করে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস কড়া প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, নির্বাচনী নির্ঘণ্ট চলাকালীন কোনো রাজ্যে এত বড় মাপের নিরাপত্তা বৈঠক সচরাচর দেখা যায় না।

তৃণমূলের অভিযোগ ও জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন

শাসক দলের পক্ষ থেকে এই তৎপরতাকে ‘সামরিক কায়দায় ক্ষমতা দখল’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। তৃণমূল নেত্রী মহুয়া মৈত্র দাবি করেছেন, কাশ্মীর বা মণিপুরের মতো অশান্ত এলাকা থেকে জওয়ানদের সরিয়ে এনে বাংলায় মোতায়েন করা হচ্ছে, যা পরোক্ষভাবে জাতীয় নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। দলটির নেতাদের মতে, প্রতি ১৪০ জন ভোটারের বিপরীতে একজন করে জওয়ান মোতায়েন করার মূল উদ্দেশ্য হলো সাধারণ মানুষের মনে ত্রাস সৃষ্টি করা এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় প্রভাব খানা।

নিরাপত্তা বাহিনীর যুক্তি ও ক্রমবর্ধমান মোতায়েন

পাল্টা যুক্তিতে নিরাপত্তা সংস্থাগুলো জানিয়েছে, অবাধ এবং শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতেই এই সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে বাংলায় প্রায় ২.৪ লক্ষ কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান মোতায়েন করা হচ্ছে, যা ২০২১ সালের তুলনায় প্রায় তিনগুণ। সিআইএসএফ কর্তারা জানিয়েছেন, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে এবং বিভিন্ন বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে হিংসামুক্ত নির্বাচন করাই তাঁদের মূল লক্ষ্য।

মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব ও আগামীর ইঙ্গিত

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই বিপুল সংখ্যক বাহিনীর উপস্থিতি কেবল নিরাপত্তার চাদর নয়, বরং ভোটারদের ওপর এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক প্রভাবও তৈরি করতে পারে। একদিকে কমিশন বিগত বছরগুলোর নির্বাচনী হিংসার ইতিহাসকে হাতিয়ার করে কড়াকড়ি বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে বিরোধীরা একে গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব করার চেষ্টা হিসেবে দেখছে। এই সংঘাতের ফলে নির্বাচনের দিনগুলোতে বুথে বুথে উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এক ঝলকে

  • কলকাতায় সিআরপিএফসহ পাঁচটি কেন্দ্রীয় বাহিনীর শীর্ষ কর্তাদের নজিরবিহীন বৈঠক অনুষ্ঠিত।
  • তৃণমূলের দাবি, কাশ্মীর ও মণিপুর থেকে বাহিনী সরিয়ে বাংলায় এনে জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত করা হচ্ছে।
  • এবারের নির্বাচনে প্রায় ২.৪ লক্ষ জওয়ান মোতায়েন করা হয়েছে, যা ২০২১ সালের তুলনায় প্রায় তিনগুণ বেশি।
  • প্রতি ১৪০ জন ভোটারের জন্য একজন কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্য থাকার ঘটনাটি নির্বাচনের ইতিহাসে বিরল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *