রক্তাক্ত দাঁতন: বিজেপি প্রার্থীর ওপর প্রাণঘাতী হামলা, পরিস্থিতি সামলাতে পুলিশি তৎপরতা
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে উত্তপ্ত হয়ে উঠল পশ্চিম মেদিনীপুরের দাঁতন এলাকা। মঙ্গলবার সকালে বিজেপি প্রার্থী অজিত কুমার জানার সমর্থনে আয়োজিত একটি মোটরবাইক মিছিলে অতর্কিত হামলার জেরে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। হরিপুর থেকে শুরু হওয়া এই র্যালিটি আঁতলা এলাকায় পৌঁছালে একদল দুষ্কৃতী লাঠি, রড ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে মিছিলে ঝাঁপিয়ে পড়ে বলে অভিযোগ। এই নজিরবিহীন হামলায় প্রার্থী নিজে গুরুতর আহত হয়েছেন এবং বেশ কিছু দলীয় কর্মী রক্তাক্ত হয়েছেন।
হামলার তীব্রতা ও প্রার্থীর অবস্থা
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি অনুযায়ী, আক্রমণটি এতটাই অতর্কিত ছিল যে মিছিলটি ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। হামলায় বিজেপি প্রার্থী অজিত কুমার জানার একটি হাত ভেঙে গিয়েছে বলে জানা গেছে। তাকে তড়িঘড়ি উদ্ধার করে মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। এছাড়া আরও বেশ কয়েকজন কর্মী-সমর্থক গুরুতর জখম অবস্থায় মোহনপুর গ্রামীণ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হামলার সময় প্রার্থীর গাড়ি ও একাধিক মোটরবাইক ভাঙচুর করা হয়, যার ফলে এলাকা রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়।
রাজনৈতিক উত্তেজনা ও প্রশাসনিক তৎপরতা
এই ঘটনার প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা স্থানীয় থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। বিজেপির পক্ষ থেকে এই বর্বরোচিত হামলার পেছনে তৃণমূল কংগ্রেস আশ্রিত দুষ্কৃতীদের হাত রয়েছে বলে সরাসরি অভিযোগ তোলা হয়েছে। যদিও এই অভিযোগ নিয়ে শাসক শিবিরের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া মেলেনি। ভোটের মাত্র কয়েক দিন আগে এই ধরনের সংঘর্ষ স্থানীয়দের মনে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে এবং ওই অঞ্চলে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
ঘটনার প্রভাব
নির্বাচনের চূড়ান্ত লগ্নে এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ দাঁতন বিধানসভা কেন্দ্রের রাজনৈতিক সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলেছে। প্রার্থীর ওপর সরাসরি হামলার ঘটনায় ওই এলাকায় নির্বাচনী নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠেছে। এই ঘটনার জেরে নির্বাচন কমিশন কঠোর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করে কি না, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।
এক ঝলকে
- পশ্চিম মেদিনীপুরের দাঁতনে বিজেপির বাইক মিছিলে ধারালো অস্ত্র ও রড নিয়ে অতর্কিত হামলা।
- গুরুতর আহত বিজেপি প্রার্থী অজিত কুমার জানাকে মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজে ভর্তি করা হয়েছে।
- হামলার প্রতিবাদে থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ এবং এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজমান।
- ভোটের আগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।