সুপ্রিম কোর্টে বড় ধাক্কা খেল ঘাসফুল শিবির!

বার্তা ডেস্কঃ

কলকাতা / নতুন দিল্লি: তৃণমূল কংগ্রেসের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা সংক্রান্ত কলকাতা হাইকোর্টের অন্তর্বর্তী নির্দেশে এখনই কোনো হস্তক্ষেপ করল না দেশের সর্বোচ্চ আদালত। সুপ্রিম কোর্ট সাফ জানিয়েছে, দলের দৈনন্দিন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কাজ সচল রাখার জন্য কলকাতা হাইকোর্ট ইতিমধ্যেই যে অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা নিয়েছে, তা যথেষ্ট এবং যুক্তিযুক্ত। ফলে আপাতত হাইকোর্টের দেওয়া নির্দেশেই বহাল থাকছে।

মামলাটি যেহেতু এখনও কলকাতা হাইকোর্টে বিচারাধীন, তাই এর যাবতীয় আইনি নিষ্পত্তি হাইকোর্টেই হবে বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে বিচারপতি এম. এম. সুন্দরেশ এবং বিচারপতি পি. বি. ভারালে-র ডিভিশন বেঞ্চ।

আদালতে দু’পক্ষের সওয়াল-জবাব

শুনানি চলাকালীন তৃণমূলের পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিবাল যুক্তি দেন, “প্রায় ১৬০ কোটি টাকার লেনদেন নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও ব্যাঙ্কে দলের জমা রয়েছে ৪০০ কোটিরও বেশি টাকা। তাহলে কেন পুরো অর্থ ফ্রিজ করে রাখা হবে?” তিনি আরও জানান, অ্যাকাউন্ট বন্ধ থাকায় দলের কর্মী ও অফিস চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। চলতি মাসে প্রায় ২৫০ জন কর্মীর ৫৩ লক্ষ টাকারও বেশি বেতন বকেয়া রয়েছে। এছাড়া ১৭টি অফিস পরিচালনা ও নিরাপত্তার স্বার্থে প্রতি মাসে প্রায় এক কোটি টাকা খরচ হয়।

অন্যদিকে, এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ED) পক্ষে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল এস. ভি. রাজু পাল্টা দাবি করেন, “হাইকোর্টের ৯ জুলাইয়ের নির্দেশ অনুযায়ী, ইন্ডিয়ান ব্যাঙ্কের একটি অ্যাকাউন্ট সহ মোট ৩টি অ্যাকাউন্ট থেকে প্রয়োজনীয় খরচ চালানো সম্ভব। সেগুলিতে পর্যাপ্ত অর্থও রয়েছে, ফলে দলের প্রশাসনিক কাজ চালাতে কোনো আইনি বাধা নেই।”

প্রকাশ্যে দলীয় কোন্দল ও নতুন জটিলতা

আইনি লড়াইয়ের মাঝেই প্রকাশ্যে এসেছে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়-ঘনিষ্ঠ বিধায়ক বিশ্বনাথ দাস হাইকোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছিলেন। তাঁর আইনজীবীর দাবি, তাঁরা দলত্যাগ না করায় তাঁরাই ‘আসল’ তৃণমূল কংগ্রেস। ফলে দলের একটি নির্দিষ্ট অংশকে অ্যাকাউন্ট চালানোর সুবিধা দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলে এই বিদ্রোহী গোষ্ঠী।

তবে সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পর সুপ্রিম কোর্ট পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে, মূল আইনি ও আর্থিক বিবাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে কলকাতা হাইকোর্টই।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *