হাড়হিম করা ঘটনা, মামার হাঁসুয়ার কোপে প্রাণ গেল ৩ শিশুর!

বার্তা ডেস্কঃ

মুর্শিদাবাদ: খেলার ছলে কাটছিল স্বাভাবিক বিকেল। কিন্তু মুহূর্তের মধ্যেই সেই আনন্দ পরিণত হলো বিভীষিকায়। নিজের পরিবারেরই চার শিশুকন্যাকে হাঁসুয়া দিয়ে এলোপাথাড়ি কোপানোর অভিযোগ উঠল এক যুবকের বিরুদ্ধে। রক্তক্ষয়ী এই হামলায় ইতোমধ্যেই তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে, আর এক শিশু হাসপাতালের বিছানায় মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে মুর্শিদাবাদের সুতি থানার রঘুনাথপুর গ্রামে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহত তিন শিশু হলো—মণিফা খাতুন (৫), ইসরাত পারভিন (১১) এবং আনিসা খাতুন (৭)। আহত ছয় বছরের নুসরত জাহান বর্তমানে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন। অভিযুক্ত যুবকের নাম গোলাম সারওয়ার (২১) ওরফে বাদশা। সম্পর্কে সে আক্রান্ত শিশুদের মামা ও কাকা হয়।

গ্রামবাসীরা জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে বাদশার বাড়ির উঠোন ও বারান্দায় খেলছিল ওই চার শিশু। আচমকাই বাদশা ধারালো হাঁসুয়া নিয়ে তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং কোপাতে শুরু করে। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারায় মণিফা। বাকিদের রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে জঙ্গিপুর সুপার স্পেশালিটি ও পরে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বাকি দুই শিশুরও মৃত্যু হয়।

ঘটনার খবর পেয়ে সুতি থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত বাদশাকে আটক করেছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, মানসিক অন্তর্মুখী স্বভাবের বাদশা বাড়িতে বাবার সঙ্গে থাকত, তবে ঘটনার সময় তার বাবা উপস্থিত ছিলেন না। তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ বাদশার ঘর থেকে বেশ কিছু অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট (অবসাদবিরোধী) ওষুধ উদ্ধার করেছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, চরম মানসিক অবসাদ থেকেই সে এমন নৃশংস কান্ড ঘটিয়ে থাকতে পারে। ঘটনার পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশ তদন্ত জারি রেখেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *