স্বাধীনতা দিবসের মঞ্চে মোদীর অনুষ্ঠান এড়িয়ে কী বার্তা দিলেন বিরোধী দলনেতা?
বার্তা ডেস্কঃ
দেশের ৮০তম স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লার ঐতিহাসিক প্রাচীর থেকে যখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জাতীয় পতাকা উত্তোলন করছেন, তখন অনুষ্ঠান প্রাঙ্গণে ফের নজর কাড়ল লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এবং কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের অনুপস্থিতি। পরপর দুই বছর দেশের এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় অনুষ্ঠান কংগ্রেসের এই দুই শীর্ষ নেতার এড়িয়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে সরগরম হয়ে উঠেছে জাতীয় রাজনীতির ময়দান।
নাম না করে মোদীর তীব্র আক্রমণ: লালকেল্লা থেকে ভাষণ দেওয়ার সময় নাম না করে বিরোধীদের কড়া ভাষায় নিশানা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি বলেন, “কিছু মানুষ দেশের সাফল্য সহ্য করতে পারেন না। গভীর হতাশায় ডুবে থাকা এই ধরনের নেতিবাচক ও বিকৃত মানসিকতা দেশের উন্নতির ক্ষতি করছে।” মোদীর এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, লালকেল্লায় উপস্থিত না থাকা প্রধান বিরোধী নেতৃত্বকেই পরোক্ষভাবে এই আক্রমণ শানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
আসন বিন্যাস ঘিরে বিরোধের জের? যদিও কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এই অনুপস্থিতি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি, তবে রাজনৈতিক মহলে চর্চা তুঙ্গে। আয়োজক প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রে দাবি করা হয়েছে, বিরোধী দলনেতাদের সম্মান জানিয়ে উপযুক্ত স্থানেই আসন নির্ধারিত ছিল।
উল্লেখ্য, স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে আসন বণ্টন নিয়ে এই বিতর্কের সূত্রপাত গত বছর (২০২৪ সালে)। সেবার লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে পঞ্চম সারিতে বসতে দেওয়া নিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েছিল কংগ্রেস। কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে তখন সাফাই দেওয়া হয়েছিল, অলিম্পিক পদকজয়ী ক্রীড়াবিদদের সম্মান জানাতেই তাঁদের সামনের সারিতে রাখা হয়েছিল এবং প্রোটোকল মানা হয়েছিল। কিন্তু কংগ্রেসের যুক্তি ছিল, ক্যাবিনেট মন্ত্রীর মর্যাদাপ্রাপ্ত লোকসভার বিরোধী দলনেতার আসন অবশ্যই প্রথম সারিতে হওয়া উচিত ছিল।
২০২৫ সালের পর ২০২৬ সালের স্বাধীনতা দিবসের ঐতিহাসিক মুহূর্ত থেকেও দূরত্ব বজায় রাখার এই ঘটনা বিরোধী ও শাসকদলের মধ্যকার সম্পর্কের টানাপোড়েনকে কোন দিকে নিয়ে যায়, এখন সেটাই দেখার।