ফাঁসির বিকল্প নেই, সুপ্রিম কোর্টের রায়ে বড় ধাক্কা!

বার্তা ডেস্কঃ

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ক্ষেত্রে ফাঁসির বদলে প্রাণঘাতী ইনজেকশন বা অন্য কোনো ‘কম যন্ত্রণাদায়ক’ পথ বেছে নেওয়ার সমস্ত আবেদন খারিজ করে দিল সুপ্রিম কোর্ট। দেশের শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, আপাতত ভারতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের একমাত্র আইনি ও সাংবিধানিক মাধ্যম হিসেবে ফাঁসিই বলবৎ থাকবে।

বিচারপতি বিক্রম নাথ এবং বিচারপতি সন্দীপ মেহতার ডিভিশন বেঞ্চ মামলাটি খারিজ করার পাশাপাশি, বিষযটি পুনর্বিবেচনার জন্য বৃহত্তর বেঞ্চে পাঠানোর আবেদনও প্রত্যাখ্যান করে।

মামলাকারীর দাবি ও যুক্তি: আইনজীবী ঋষি মালহোত্রার দায়ের করা জনস্বার্থ মামলায় ফাঁসির বদলে প্রাণঘাতী ইনজেকশন, ফায়ারিং স্কোয়াডে গুলি করা, বৈদ্যুতিক শক কিংবা গ্যাস চেম্বারের মতো আধুনিক পদ্ধতির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।

আবেদনে দাবি করা হয়:

  • ফাঁসির মাধ্যমে মৃত্যু নিশ্চিত হতে প্রায় ৪০ মিনিট পর্যন্ত সময় লেগে যায়, যা অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক ও অমানবিক।
  • এর বিপরীতে ইনজেকশন বা গুলির মাধ্যমে মাত্র ৫ মিনিটের মধ্যেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন সম্ভব।
  • ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৫৪(৫) ধারা অনুযায়ী ফাঁসির নিয়মটিকে অসাংবিধানিক ঘোষণা এবং সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদের অধীনে ‘মর্যাদাপূর্ণ মৃত্যুর অধিকার’-কে মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানানো হয়।

আদালতের অবস্থান ও পর্যবেক্ষন: সুপ্রিম কোর্ট জানায়, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ভবিষ্যতের পথ চিরতরে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে না।

  • যদি ভবিষ্যতে চিকিৎসাবিজ্ঞান বা বৈজ্ঞানিক গবেষণায় আরও কম যন্ত্রণাদায়ক প্রমাণিত কোনো বিকল্প পদ্ধতির জোরালো তথ্য সামনে আসে, তবে আদালত তা পুনরায় খতিয়ে দেখতে পারে।
  • কেন্দ্রীয় সরকার চাইলে বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করে ফাঁসির বিকল্প পদ্ধতিগুলো পর্যালোচনা করতে পারে।

কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা: শুনানি চলাকালীন সরকারের পক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল আর ভেঙ্কটরামানি জানান যে, বিষয়টি পর্যালোচনার জন্য সরকার একটি কমিটি গঠন করেছে। তবে আদালত পূর্বে মন্তব্য করেছিল যে, ঐতিহ্যগত এই প্রাচীন ব্যবস্থা বা ফাঁসি দেওয়ার নিয়ম পরিবর্তনে কেন্দ্রের বিশেষ আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না। এর আগে আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের মাধ্যম (ফাঁসি নাকি ইনজেকশন) বেছে নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব রাখা হলেও, কেন্দ্র হলফনামা দিয়ে জানায়— এমন বিকল্প দেওয়া বাস্তবে সম্ভব নয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *