৪ মাসে ২২ মৃত্যুদণ্ড! বিচারক রবি কুমার দিবাকরের সিদ্ধান্তে তোলপাড় বিশ্ব।
বার্তা ডেস্কঃ
উত্তরপ্রদেশের মুজফফরনগরের ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারক রবি কুমার দিবাকরকে নিয়ে বর্তমানে দেশজুড়ে তীব্র চর্চা চলছে। গত চার মাসে (৬ এপ্রিল ২০২৬ থেকে ১৩ আগস্ট ২০২৬) ১০টি পৃথক মামলায় তিনি মোট ২২ জন আসামির মৃত্যুদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছেন।
আদালত সূত্রের খবর অনুযায়ী, এই মামলাগুলির মধ্যে রয়েছে ২০১৯ সালের ৪৫ লক্ষ টাকা সংক্রান্ত বিবাদে আইনজীবী মহম্মদ সমীরকে অপহরণ ও হত্যা (৩ জনের মৃত্যুদণ্ড), এক মহিলা ও তাঁর তিন ছেলের সাজা, ১৫ বছর আগে মা ও ৬ বছরের শিশুকে নৃশংস খুনের ঘটনা, হাইওয়েতে ডাকাতি এবং ডিউটিরত হোমগার্ড রতিরাম হত্যা মামলা। প্রতিটি ক্ষেত্রেই তিনি কঠোর শাস্তির সিদ্ধান্ত শুনিয়েছেন এবং বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে অপরাধকে “বিরলের মধ্যে বিরলতম” (Rarest of Rare) বলে উল্লেখ করেছেন।
বিচারক দিবাকরের এই ধরনের কঠোর সিদ্ধান্ত কিন্তু নতুন নয়:
- বারেলি পোস্টিং: এখানে থাকাকালীন তিনি ‘চাইমার হাসেন’ গ্যাংয়ের ৮ সদস্যসহ মোট ১৩ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন। তাঁর গোটা কর্মজীবনে এখন পর্যন্ত মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির সংখ্যা দাঁড়াল ৩৫।
- জ্ঞানবাপী মামলা: ২০২২ সালে বারাণসীর বিতর্কিত জ্ঞানবাপী মসজিদ চত্বরে ভিডিওগ্রাফিক সমীক্ষার ঐতিহাসিক নির্দেশ দিয়ে তিনি প্রথম জাতীয় স্তরে শিরোনামে আসেন। ২০২৫ সালের ২৯ নভেম্বর তিনি মুজফফরনগর আদালতে যোগ দেন।
পরপর এতগুলি মামলায় প্রাণদণ্ডের সাজা দেওয়া নিয়ে আইন বিশেষজ্ঞ ও মানবাধিকার কর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বেশ কয়েকজন আইনজীবীর মতে, এত দ্রুত মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার ক্ষেত্রে বিচারব্যবস্থার আরও সতর্ক হওয়া উচিত। অন্যদিকে, মানবাধিকার ও বন্দি অধিকার কর্মী নাদির রানার মতে, এই রায়গুলি ভুক্তভোগী পরিবারগুলিকে সুবিচার দিয়েছে এবং বিচারব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা দৃঢ় করেছে।
উল্লেখ্য, ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (BNSS)-এর ৪০৭(১) ধারা অনুসারে, হাইকোর্টের চূড়ান্ত অনুমোদন ছাড়া সেশন কোর্টের দেওয়া এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা সম্ভব নয়।