পর্যটন শিল্পে বিপ্লব, ১০১ দিনে রাজ্যের বড় চমক!
August 19, 2026
বার্তা ডেস্কঃ
রাজ্যের অর্থনীতিকে গতিশীল করতে পর্যটন খাতকে অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। মঙ্গলবার নব মহাকরণে সরকারের ১০১ দিনের কাজের খতিয়ান তুলে ধরে পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ একাধিক যুগান্তকারী প্রকল্পের ঘোষণা করেন। ধর্মীয় স্থান, ঐতিহাসিক কলোনি সার্কিট, হেরিটেজ সাইট এবং সুন্দরবনকে কেন্দ্র করে সাজানো হয়েছে এই সামগ্রিক মাস্টারপ্ল্যান।
প্রকল্পের প্রধান দিকসমূহ:
- ইউরোপীয় কলোনি ও হেরিটেজ সার্কিট: রাজ্যে থাকা বিভিন্ন ইউরোপীয় উপনিবেশগুলোকে একসঙ্গে যুক্ত করে একটি বিশেষ ‘ইউরোপীয় কলোনি সার্কিট’ তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের মোট বাজেট ধরা হয়েছে ৫.৭৪ কোটি টাকা। হেরিটেজ কমিশন ও অর্থ দপ্তর ইতিমধ্যেই এতে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে।
- ১০৮টি ধর্মীয় সার্কিট: কালীঘাট, দক্ষিণেশ্বর, তারকেশ্বর ও মহাকালের মতো বিখ্যাত ধর্মীয় স্থানগুলোকে সুসংহত কাঠামোর অধীনে আনতে ১০৮টি ধর্মীয় ট্যুরিজম সার্কিট গড়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। সেই সঙ্গে জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িকেও এই হেরিটেজ পরিকল্পনায় যুক্ত রাখা হচ্ছে।
- সুন্দরবন ও নতুন ‘নগরবন’: সুন্দরবনকে বিশ্বের দরবারে রাজ্যের ‘সেকেন্ড গ্লোবাল ডেস্টিনেশন’ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এজন্য কেন্দ্রীয় পর্যটন মন্ত্রণালয়ের কাছে ১০২ কোটি, ১৫ কোটি ও ১২ কোটি টাকার পৃথক ডিপিআর (DPR) জমা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, বন দপ্তরের সাথে যৌথ উদ্যোগে শিলিগুড়ির উপকণ্ঠে প্রায় ১৫০ হেক্টর জমিতে একটি ‘নগরবন’ তৈরি করা হবে।
- আঞ্চলিক সার্কিট ও নতুন নীতি: আলিপুরদুয়ার, হুগলি ও নবদ্বীপকে কেন্দ্র করে নতুন সার্কিট তৈরির কাজ চলছে। এর পাশাপাশি রাজ্যে ‘স্বাস্থ্য পর্যটন নীতি’ এবং পর্যটনকে শিল্পের মর্যাদা দিয়ে একটি স্বতন্ত্র ‘পর্যটনভিত্তিক শিল্পনীতি’ তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
পর্যটনমন্ত্রীর আশা, আগামী দিনে এই সমস্ত প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পর্যটন খাত রাজ্যের নিজস্ব রাজস্ব বৃদ্ধিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।