২৭ বার কোপ! স্কুলের প্রিন্সিপালকে খুনে আটক দশম শ্রেণীর ২ ছাত্র

বার্তা ডেস্কঃ

হায়দরাবাদের বেসরকারি স্কুলের প্রিন্সিপাল রূপা রেড্ডি হত্যা মামলার রহস্য উন্মোচন করল পুলিশ। ১১ অগস্ট নালগোন্ডা জেলায় নিজ বাসভবন থেকে রূপা দেবীর ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার হয়। তিনি বাড়িতে একাই ছিলেন এবং তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে ২৭ বার কোপানো হয়েছিল। ঘটনার ৮ দিন পর এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট স্কুলেরই দশম শ্রেণীর দুই ছাত্রকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, মৃত্যুর ঠিক আগে কাকিমার সঙ্গে ফোনে কথা বলছিলেন রূপা দেবী। হঠাৎই তিনি ‘বাবু’ বলে চেঁচিয়ে ওঠেন এবং ফোনটি বন্ধ হয়ে যায়। স্থানীয় ভাষায় ছোটদের বা ছাত্রদের ‘বাবু’ বলে ডাকা হয়—এই ক্লু ধরে এগোতেই স্কুলের পরিচারক ও শিক্ষার্থীদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে পুলিশ। তদন্ত চলাকালীন ওই দুই ছাত্রের হঠাৎ অতিরিক্ত টাকা ওড়ানো, রেস্তোরাঁয় পার্টি করা এবং দামি জিনিস কেনার বিষয়টি নজর কাড়ে। ১৯ অগস্ট জিজ্ঞাসাবাদের সময় এক ছাত্রের কাছে ১ লক্ষ ৫১ হাজার টাকা ও একটি আইফোন পাওয়া যায়। টাকার নোটে রক্তের দাগ দেখে নিশ্চিত হয় পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জুলাই মাসের শেষে এক ছাত্রের ব্যাগে প্রচুর টাকা ও আইফোন দেখে তাকে তিরস্কার করেছিলেন রূপা দেবী। তাকে হস্টেল থেকে বের করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে অভিভাবকদেরও ডেকে পাঠান তিনি। এতেই আক্রোশ বাড়ে ওই ছাত্রের। মদের নেশা ও দ্রুত ধনী হওয়ার লোভে তারা প্রিন্সিপালের বাড়িতে চুরির ছক কষে। ১১ অগস্ট স্কুলের ফি জমা দেওয়ার দিন রূপার বাড়িতে প্রচুর টাকা থাকবে—এই অনুমানে আগে থেকেই রেকি করে দুই ছাত্র। ঘটনার দিন এক ছাত্র পাঁচিল টপকে বাড়িতে ঢোকে এবং অপরজন বাইরে পাহারা দেয়। প্রিন্সিপাল তাকে চিনে ফেলায় সে অতর্কিতে হামলা চালিয়ে ২৭ বার কুপিয়ে আড়াই লক্ষ টাকা নিয়ে চম্পট দেয়। অভিযুক্ত দু’জনকে জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ডে পেশ করার পর তাদের জুভেনাইল হোমে পাঠানো হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *