ধর্মাচারণের অধিকার অবাধ নয়, পাটনা হাইকোর্টের কড়া বার্তা!
বার্তা ডেস্কঃ
ঘটনার সূত্রপাত বিহারের সিওয়ানে। সেখানে একটি স্থানীয় হিন্দু আখড়ার পক্ষ থেকে বার্ষিক ধর্মীয় শোভাযাত্রায় ৩০০ জন পুণ্যার্থীর অংশগ্রহণের অনুমতি চেয়ে প্রশাসনের কাছে আবেদন করা হয়েছিল। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে প্রশাসন সেই অনুমতি দেয়নি। প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সংবিধানের ২৫ নম্বর অনুচ্ছেদে বর্ণিত ‘ধর্মাচরণের মৌলিক অধিকার’ ক্ষুণ্ণ হওয়ার অভিযোগে পাটনা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেন উদ্যোক্তারা।
মামলাকারীদের দাবি ছিল, প্রশাসন অন্যায়ভাবে প্রতি বছর পুণ্যার্থীর সংখ্যা কমিয়ে দিচ্ছে। ২০১২-১৩ সালেও যেখানে ২০০ জন অংশ নিতে পারতেন, ২০২৩ সালে তা মাত্র ৫ জনে নামিয়ে আনা হয়। এমনকি শোভাযাত্রার ঐতিহ্যবাহী রুটও বদলে দেওয়া হয়েছে।
এর জবাবে রাজ্য সরকারের তরফে আদালতে জানানো হয়, কোনো বৈষম্য নয়, বরং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতেই এই পদক্ষেপ। রাজ্যের যুক্তিকে প্রমাণ করে আদালতকে জানানো হয়, কঠোর বিধিনিষেধ সত্ত্বেও ২০২৪ সালের শোভাযাত্রা চলাকালীন উত্তেজিত জনতা সরকারি গাড়িতে আগুন দেয় এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়ে।
রাজ্য সরকারের এই যুক্তিতে সম্মতি জানিয়ে বিচারপতি অলোক কুমার মামলাটি খারিজ করে দেন। তিনি পর্যবেক্ষণ জানান, সংবিধানে ধর্মীয় স্বাধীনতা সুরক্ষিত হলেও তা কখনোই অনিয়ন্ত্রিত বা অবাধ নয়। সর্বোচ্চ আদালতের বিভিন্ন রায়ের উল্লেখ করে তিনি বলেন, ধর্ম পালনের অধিকারকে সবসময়ই সামাজিক নিয়মবিধি, শান্তি ও অপরের অধিকারের সাথে সামঞ্জস্য রেখে চলতে হবে।