‘জুতোর মালা পরলেও মমতাদির সঙ্গ ছাড়ব না!’—পুরনো পেশায় ফেরার মুখে বিস্ফোরক স্বপন

বার্তা ডেস্কঃ

বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর এবার রাজনীতি ও জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করতে চলেছেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতা স্বপন দেবনাথ। আগামী দুর্গাপুজোর পরেই নিজের পুরনো পেশা অর্থাৎ আইনজীবী হিসেবে কালনা আদালতে ফিরতে চলেছেন তিনি। তবে এর পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে রাস্তায় কোমরে দড়ি বেঁধে বা জুতোর মালা পরিয়ে ঘোরানার মতো মারাত্মক আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন মধ্য-সত্তরের এই নেতা। কিন্তু এই সমস্ত আশঙ্কা সত্ত্বেও নিজের সিদ্ধান্ত থেকে পিছু হটতে নারাজ তিনি।

২০০৬ সালে প্রথমবার নাদনঘাট (বর্তমানে পূর্বস্থলী দক্ষিণ) কেন্দ্র থেকে বিধায়ক হওয়ার আগে কালনা মহকুমা আদালতে পুরোদমে আইনি প্র্যাকটিস করতেন স্বপনবাবু। ২০১১ সালে রাজ্যে তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর তিনি রাজনীতি ও মন্ত্রীত্বের দায়িত্বে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। কিন্তু দীর্ঘ জয়ের পর এবারই প্রথম বিজেপি প্রার্থী প্রাণকৃষ্ণ তপাদারের কাছে পরাজিত হন তিনি।

সোমবার কালনা মহকুমা আদালত চত্বরে গিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দেখা করেন স্বপন দেবনাথ। উপ-সংশোধনাগারে গিয়ে দলীয় সহকর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার পাশাপাশি বার অ্যাসোসিয়েশনের নতুন সম্পাদকের সাথে সদস্যপদ নবীকরণ নিয়েও কথা বলেন। পুরনো পেশায় ফেরা প্রসঙ্গে তিনি জানান, “সময় কাটানোর জন্যই পুজোর পর আবার আদালতে বসার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

তবে ওকালতিতে ফিরলেও রাজনীতি বা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গ যে ছাড়ছেন না, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন স্বপনবাবু। তিনি বলেন, “আমি রাজনীতির লোক, মমতাদির সঙ্গে আমৃত্যু থাকব।” দলের কর্মীদের ওপর অত্যাচার ও বাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ তুলে তিনি আরও যোগ করেন, “হয়তো আমাকেও একদিন জুতোর মালা পরিয়ে, কোমরে দড়ি বেঁধে ঘোরাবে। নতুন কোনও মামলায় ফাঁসানো হতে পারে। আমি তার জন্য মানসিকভাবে সম্পূর্ণ তৈরি।”

অন্যদিকে, বিজেপি বিধায়ক প্রাণকৃষ্ণ তপাদার এই আশঙ্কাকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়ে জানান, “আইন আইনের পথে চলবে। উনি অপরাধ করলে শাস্তি পাবেন, না করলে পাবেন না। অস্তিত্ব বাঁচাতেই উনি এখন এসব গল্প তৈরি করছেন।”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *