চিকিৎসকের ওপর নারকীয় হামলা, তোলপাড় মহারাষ্ট্র!

বার্তা ডেস্কঃ

নিজস্ব প্রতিনিধি: চিকিৎসকদের আত্মত্যাগ ও সেবার বদলে মিলছে অপমান আর শারীরিক নিগ্রহ! ফের এমনই এক মর্মান্তিক ও উদ্বেগজনক ঘটনার সাক্ষী থাকল মহারাষ্ট্র। থানের কল্যাণে অবস্থিত একটি বেসরকারি হাসপাতালে এক অর্থোপেডিক চিকিৎসকের ওপর চড়াও হয়ে মারধরের গুরুতর অভিযোগ উঠল রোগীর ছেলের বিরুদ্ধে। আক্রান্ত চিকিৎসকের নাম ডঃ যোগেন্দ্র জয়সওয়াল।

কী ঘটেছিল সেদিন? ঘটনাটি ঘটে গত শনিবার রাত ১১টা নাগাদ। হাসপাতাল সূত্রে খবর, জয়বন্ত দেশমুখ নামে এক রোগীর পাঁজরের হাড়ে চোট থাকায় তাঁকে পরীক্ষা করছিলেন ডঃ জয়সওয়াল। ব্যান্ডেজ বাঁধার সঠিক নিয়ম ও ওষুধ খাওয়ার নির্দেশাবলী বুঝিয়ে দেওয়ার সময় রোগীর ছেলে বারবার একই প্রশ্ন তুলে আসাম্মানজনক ভাষায় কথা বলতে শুরু করেন। চিকিৎসক তাঁর আচরণের প্রতিবাদ জানিয়ে সম্মানের সাথে কথা বলতে বললে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

অভিযোগ, ক্ষুব্ধ হয়ে রোগীর ছেলে চিৎকার করে উঠে বলেন— “নিজেকে কী মনে করেন? বড় কোনো ডাক্তার নাকি?” এরপর ঘরের বাইরে গিয়ে গালিগালাজ শুরু করেন তিনি। ডঃ জয়সওয়াল ফের প্রতিবাদ করলে তিনি আবার চেম্বারে ঢুকে চিকিৎসকের ওপর চড়াও হন এবং এলোপাতাড়ি মারধর করেন।

চিকিৎসক মহলে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক ঘটনার পর থানে পুলিশে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তবে পুলিশ তদন্ত শুরু করলেও অভিযুক্তকে এখনো গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। এই ঘটনায় তীব্র আতঙ্ক ও ক্ষোভে ফুঁসছেন স্থানীয় চিকিৎসকরা। মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ডঃ জয়সওয়াল আক্ষেপের সুর মিলিয়ে বলেন, “বছরের পর বছর কঠোর পরিশ্রম করে ডাক্তারি পাশ করার পর যদি মানুষকে বাঁচাতে গিয়ে কর্মক্ষেত্রেই আক্রান্ত হতে হয়, তবে আমাদের নিরাপত্তা কোথায়?”

পর পর হামলায় কাঠগড়ায় স্বাস্থ্যব্যবস্থার নিরাপত্তা উল্লেখ্য, গত কয়েক সপ্তাহের মধ্যে মহারাষ্ট্রে চিকিৎসকদের ওপর হামলার এটি দ্বিতীয় ঘটনা। এর আগে কল্যাণ-ডোম্বিভলির এক রাজনৈতিক নেত্রীর বিরুদ্ধে মহিলা চিকিৎসক ও হাসপাতালের নার্সদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছিল। পরপর এই ধরনের ঘটনাই প্রমাণ করে দিচ্ছে যে, বর্তমানে হাসপাতালগুলোতে স্বাস্থ্যকর্মীরা কতটা ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কাজ করছেন। চিকিৎসকদের দাবি, অবিলম্বে হামলাকারীকে গ্রেপ্তার করতে হবে এবং হাসপাতালগুলোতে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করতে হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *