ভেষজ মানেই নিরাপদ? আয়ুর্বেদ ওষুধের আড়ালে ধীরগতিতে ধ্বংস হচ্ছে আপনার লিভার!
বার্তা ডেস্কঃ
আয়ুর্বেদিক বা হার্বাল ওষুধ পুরোপুরি নিরাপদ এবং এর কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই—এমন একটি ভুল ধারণা প্রচলিত রয়েছে। এই ধারণার বশবর্তী হয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই সোশ্যাল মিডিয়া বা চটকদার বিজ্ঞাপন দেখে অনেকে লিভার ডিটক্স, ওজন কমানো বা ফ্যাটি লিভারের জন্য নানা পাউডার, জুস ও ক্যাপসুল সেবন করেন।
চিকিৎসা বিজ্ঞানে একে বলা হয় Herb-Induced Liver Injury (HILI)। সাম্প্রতিক গবেষণায় উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য—ভারতে প্রতি ১০টি লিভার ফেলিওরের মধ্যে ২টির কারণই হলো অনিয়ন্ত্রিত হার্বাল ওষুধের সেবন।
লিভার ক্ষতির প্রধান কারণসমূহ:
- ভেজাল ও স্টেরয়েড: বাজারে প্রাপ্ত অনেক নিম্নমানের হার্বাল উপাদানে দ্রুত ফলাফলের জন্য স্টেরয়েড, পেইনকিলার এবং সিসা, পারদ বা আর্সেনিকের মতো বিপজ্জনক ভারী ধাতু মেশানো থাকে।
- ভুল মাত্রা ও উপাদান: অ্যালোভেরা, ননি জুস, শিলাজিৎ কিংবা অতিরিক্ত গ্রিন টি এক্সট্রাক্ট সঠিক মাত্রায় না খেলে লিভারে বিষক্রিয়া হতে পারে।
- ডিটক্সের বিভ্রান্তি: মানবদেহের লিভার নিজেই একটি প্রাকৃতিক ডিটক্স ব্যবস্থা। “৭ দিনে লিভার পরিষ্কার”-এর মতো চটকদার বিজ্ঞাপনের কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।
যেসব লক্ষণ দেখলে সতর্ক হবেন: হার্বাল সেবনের পর জন্ডিসের লক্ষণ (চোখ ও প্রস্রাব হলুদ হওয়া), পেটের ডানদিকে ব্যথা, তীব্র ক্লান্তি, বমি ভাব, গায়ে চুলকানি বা রক্ত পরীক্ষায় SGPT/SGOT আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়া লিভার ক্ষতির স্পষ্ট ইঙ্গিত।
সুরক্ষা পেতে যা করবেন: যে কোনো হার্বাল বা আয়ুর্বেদিক সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের আগে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। শুধুমাত্র AYUSH লাইসেন্সপ্রাপ্ত ও উপাদান স্পষ্ট উল্লেখ থাকা ব্র্যান্ডের পণ্য ব্যবহার করুন। অ্যালোপ্যাথি ও হার্বাল ওষুধ একসঙ্গে খাওয়া থেকে বিরত থাকুন এবং মনে রাখুন—ফ্যাটি লিভারের মূল চিকিৎসা সুষম জীবনযাত্রা ও ওজন নিয়ন্ত্রণ, কোনো ম্যাজিক জুস নয়।