ধ্বংসস্তূপের নিচে ৬০ ঘণ্টা, অলৌকিকভাবে বেঁচে ফিরল ৬ বছরের শিশু!

বার্তা ডেস্কঃ

নেপাল: চারপাশে জমা হয়ে রয়েছে পুরু কাদার স্তর। চারদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে ভাঙাচোরা বাড়িঘর আর উপড়ে যাওয়া বড় বড় গাছ। নেপালের টিমুরে গ্রামের ভয়াবহ ধ্বংসস্তূপের মধ্যে যখন জীবন পাওয়ার আশা প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলেন উদ্ধারকারীরা, ঠিক তখনই ঘটল এক অলৌকিক ঘটনা। দুর্যোগের তিন দিন পর ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হলো ৬ বছরের এক শিশুকন্যাকে।

উদ্ধারকাজ চলাকালীন হঠাৎই এক ক্ষীণ কান্নার আওয়াজ শুনতে পান উদ্ধারকারীরা। প্রথমে অনেকে ভেবেছিলেন কোনো বিড়ালের ডাক। কিন্তু আর্মড পুলিশ ফোর্সের জওয়ানরা দেরি না করে মাটি ও কাদা সরাতে শুরু করেন। ধ্বংসস্তূপ সরাতেই সামনে আসে অবিশ্বাস্য দৃশ্য— মাটির নীচে অক্ষত অবস্থায় আটকে রয়েছে ৬ বছরের মণীষা মাগার।

টানা ৬০ ঘণ্টা কাদা ও ধ্বংসস্তূপের নীচে আটকে ছিল ছোট্ট মণীষা। শুক্রবার সন্ধ্যায় তাকে উদ্ধার করার পর খারাপ আবহাওয়ার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে কাঠমাণ্ডু পাঠানো সম্ভব হয়নি। ফলে সে রাতে উদ্ধারকারী দলের ক্যাম্পেই রেখে তাকে খাবার ও প্রাথমিক যত্ন দেওয়া হয়। শনিবার দুপুরে তাকে কাঠমাণ্ডুর একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, বর্তমানে সেখানেই তার চিকিৎসা চলছে।

তবে মণীষার পরিবার বা আত্মীয়দের এখনও কোনো খোঁজ মেলেনি। নেপাল প্রশাসন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার পরিচয় প্রকাশ করে পরিবারের সন্ধান চালানো হচ্ছে।

ভয়াবহ এই হড়পা বানে নেপালে এ পর্যন্ত প্রায় ৭৮৮ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং নিখোঁজ হাজারেরও বেশি মানুষ। মর্গগুলিতে লাশের ভিড়ে যখন চারদিকে হাহাকার, তখন কাদামাটির নিচ থেকে মণীষার এই বেঁচে ফেরা পুরো নেপালকে নতুন করে আশার আলো দেখাচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *