বিশাল ভারতে কেন একটাই টাইম জোন, জেনে নিন আসল রহস্য!
বার্তা ডেস্কঃ
বিশ্বজুড়ে সময়ের হিসেব নির্ধারণ করা হয় মূলত দ্রাঘিমা রেখা ও ভূ-প্রাকৃতিক অবস্থানের ওপর নির্ভর করে। তবে এই ব্যবস্থার পেছনে ভৌগোলিক দূরত্বের চেয়েও রাজনীতি, কেন্দ্রীয় প্রশাসন এবং বাণিজ্যের ভূমিকা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
অবাক করার মতো বিষয় হলো— ফ্রান্স বা কিরাবাতির মতো তুলনামূলক ছোট বা বিচ্ছিন্ন দ্বীপ নিয়ে গঠিত দেশে একাধিক টাইম জোন বজায় রাখা হলেও, ভারত ও চীনের মতো বিশাল দেশে বলবৎ রয়েছে মাত্র একটি টাইম জোন। উদাহরণস্বরূপ, ভারতের পূর্বে অবস্থিত অরুণাচল প্রদেশ এবং পশ্চিমে অবস্থিত গুজরাটের মধ্যে সূর্যোদয়ের সময়ে প্রায় দুই ঘণ্টার পার্থক্য তৈরি হয়। তবুও পুরো দেশে কেবল ‘ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ড টাইম’ (IST)-ই একমাত্র সরকারি সময় হিসেবে মানা হয়। একইভাবে, পুরো চীন জুড়ে কঠোরভাবে মানা হয় ‘বেইজিং টাইম’।
একক টাইম জোন বজায় রাখার মূল কারণ:
- প্রশাসনিক একরূপতা: রেলওয়ে, বিমান পরিষেবা, ব্যাংক এবং জাতীয় ব্যাংক নেটওয়ার্কের কাজে বিশৃঙ্খলা এড়াতে একক সময় অত্যন্ত কার্যকর।
- সহজ যোগাযোগ ও বাণিজ্য: সারা দেশে এক সময় বলবৎ থাকলে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন, আন্তঃরাজ্য বাণিজ্য এবং জাতীয় যোগাযোগের সুবিধা হয়।
- জাতীয় ঐক্য ও কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ: বিশাল ভূখণ্ডে প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা এবং রাজনৈতিক সংহতি সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রে একক টাইম জোনের বড় ভূমিকা রয়েছে।
যদিও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোতে প্রাকৃতিক আলোর যথাযথ ব্যবহারের লক্ষ্যে দীর্ঘদিন ধরে পৃথক টাইম জোনের দাবি উঠে আসছে, তবুও প্রশাসনিক জটিলতা এড়াতে দেশটি এখনও একক সময় ব্যবস্থাতেই অটল রয়েছে।