৫৫১ কোটি টাকার বাজি! অ্যাপলের নতুন ‘রাজা’ এখন জন টার্নাস

বার্তা ডেস্কঃ

আমেরিকার প্রযুক্তি দানব অ্যাপল-এ আনুষ্ঠানিকভাবে সূচনা হলো এক নতুন অধ্যায়ের। দীর্ঘ ১৫ বছর সফলভাবে দায়িত্ব সামলানোর পর সিইও পদ থেকে সরলেন টিম কুক। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হলেন জন টার্নাস। আর দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনেই প্রকাশ্যে এলো অ্যাপলের নতুন সিইও-র চোখধাঁধানো বেতন ও পারিশ্রমিকের হিসাব।

সম্প্রতি ‘ইউএস সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন’ (SEC)-এর কাছে জমা দেওয়া নথিতে অ্যাপল জানিয়েছে, সংস্থার নতুন সিইও জন টার্নাসের সম্ভাব্য বার্ষিক আয় (Target Compensation) হতে চলেছে প্রায় ৫ কোটি ৮০ লক্ষ ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় যা প্রায় ৫৫১ কোটি টাকা)। অন্যদিকে, বিদায়ী সিইও টিম কুক এখন থেকে সংস্থার ‘এগজিকিউটিভ চেয়ারম্যান’ হিসেবে দায়িত্ব সামলাবেন এবং তাঁর সম্ভাব্য বার্ষিক আয় হবে প্রায় ৪ কোটি ৭০ লক্ষ ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৪৪৬ কোটি টাকা)।

এক নজরে নতুন সিইও জন টার্নাসের বেতন ও প্যাকেজ:

  • মূল বেতন: বছরে ৩০ লক্ষ ডলার।
  • স্টক অ্যাওয়ার্ড (শেয়ার লভ্যাংশ): আগামী অর্থবর্ষের জন্য ৫.৫ কোটি ডলার মূল্যের শেয়ার।
  • অতিরিক্ত সুবিধা: ২০২৬ অর্থবর্ষে তিনি প্রায় ২৫ লক্ষ ডলার মূল্যের ‘রেস্ট্রিক্টেড স্টক ইউনিট’ (RSU) পাবেন।
  • শর্তাবলী: ২০২৭ অর্থবর্ষে টার্নাসকে দেওয়া শেয়ারের ৭৫ শতাংশই নির্ভর করবে ‘S&P 500’ সূচকের অন্য বড় সংস্থাগুলোর তুলনায় অ্যাপল বাজারে কেমন পারফর্ম করছে তার ওপর। বাকি ২৫ শতাংশ আগামী চার বছর ধরে সমান কিস্তিতে তিনি পাবেন।

বিশেষজ্ঞদের অনুমান, সিইও হওয়ার আগে অ্যাপলের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে থাকা অবস্থায় টার্নাস বছরে প্রায় ২.৫ কোটি ডলার (প্রায় ২৩৭ কোটি টাকা) আয় করতেন।

টিম কুকের নতুন ভূমিকা ও পারিশ্রমিক:

সিইও পদ ছাড়লেও অ্যাপল ছাড়ছেন না টিম কুক। নতুন পদ অনুযায়ী তাঁর মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ লক্ষ ডলার এবং ২০২৭ অর্থবর্ষের জন্য থাকছে ৪.৫ কোটি ডলারের স্টক অ্যাওয়ার্ড (যার ৫০% কর্মক্ষমতা-ভিত্তিক এবং ৫০% সময়-ভিত্তিক)।

উল্লেখ্য, সিইও হিসেবে ২০২৫ সালে কুক মোট ৭.৪৩ কোটি ডলার আয় করেছিলেন। নতুন পদে তাঁর আয় কিছুটা কমলেও অ্যাপল কুকের জন্য একটি বিশেষ ছাড় রেখেছে—যদি তিনি শেয়ার পাওয়ার প্রথম বছর বা তার পর অবসর নেন, তবুও তাঁর শেয়ার বাজেয়াপ্ত হবে না; নির্দিষ্ট সময়েই তিনি তা পেয়ে যাবেন।

এক নজরে স্টিভ জবস থেকে টিম কুকের পথচলা:

চলতি শতাব্দীতে অ্যাপলের সিইও পদে এটি দ্বিতীয় বড় পরিবর্তন। ২০১১ সালে সংস্থার সহ-প্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জবসের শারীরিক অসুস্থতার কারণে দায়িত্ব পেয়েছিলেন টিম কুক। গত ১৫ বছরে কুকের দক্ষ নেতৃত্বে অ্যাপলের বাজারমূল্য ৩৫,০০০ কোটি ডলার থেকে অবিশ্বাস্যভাবে বৃদ্ধি পেয়ে সাড়ে ৪ লক্ষ কোটি ডলার ছাড়িয়ে গেছে। এবার জন টার্নাসের হাত ধরে অ্যাপল প্রযুক্তি বিশ্বে কোন নতুন ইতিহাস গড়ে, সেদিকেই নজর পুরো বিশ্বের।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *