২০০ কোটির বালি ব্যবসায় ধস, পথে বসলেন ১০ হাজার শ্রমিক!
বার্তা ডেস্কঃ
রাজ্যে সুনির্দিষ্ট কোনো গাইডলাইন বা রূপরেখা না থাকায় পশ্চিম বর্ধমান জেলায় কার্যত মুখ থুবড়ে পড়েছে প্রায় ২০০ কোটি টাকার বালি গ্রেডেশন ব্যবসা। এর সরাসরি প্রভাবে গত তিন মাস ধরে কাজ হারিয়ে চরম অনটনে দিন কাটাচ্ছেন প্রায় ১০ হাজারেরও বেশি শ্রমিক, যাঁদের মধ্যে সিংহভাগই নারী।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি বাজেটে দুর্গাপুরে সেমিকন্ডাক্টর ইউনিট তৈরির কথা জানানো হয়েছিল। কিন্তু সেই ইউনিট চালুর আগেই বড় ধাক্কা খেল স্থানীয় শিল্পপ্রচেষ্টা। সাধারণ নদীর বালিকে শুকিয়ে বিশেষ ভাইব্রেটর ও চালুনির মাধ্যমে বিভিন্ন মাপের উপযোগী করে তোলাকে বলা হয় ‘স্যান্ড গ্রেডেশন’। সেমিকন্ডাক্টরের সিলিকন চিপ তৈরি থেকে শুরু করে রং, টাইলস, ওয়াল পুট্টি, কাচ শিল্প ও সোলার প্যানেল তৈরির ক্ষেত্রে এই বিশেষ গ্রেডেশনের বালি অত্যন্ত অপরিহার্য। বিশ্বে এই শিল্পের বার্ষিক ব্যবসায়িক টার্নওভার প্রায় ২৬ বিলিয়ন ডলার।
২০০৮ সাল থেকে পাণ্ডবেশ্বরের লাউদোহার গৌরবাজারে এই ব্যবসা চালিয়ে আসছিলেন উদ্যোক্তারা। কিন্তু বর্তমানে সব উৎপাদন ও সরবরাহ বন্ধ। মূল উদ্যোক্তাদের অভিযোগ, বৈধ নথি থাকা এবং বৈধ কারবারিদের থেকেই বালি কেনা সত্ত্বেও পুলিশ মাঝপথে গাড়ি আটকে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করছে এবং গ্রেডেশনের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। প্রশাসনিক এই টানাটানির কারণেই বাধ্য হয়ে কারখানা বন্ধ করতে হয়েছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলাশাসক, পুলিশ কমিশনার এবং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগে চিঠি দিয়েছে ব্যবসায়ীদের কনসালটেন্সি সংস্থা। অন্যদিকে, পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে এটি একটি নতুন ধরণের শিল্প হলেও বালির উৎস ও কেনাবেচার বৈধ কাগজপত্র নিশ্চিত করতেই এই যাচাই করা হচ্ছে। এখন রাজ্য সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত ও সঠিক গাইডলাইনের অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা।