জিডিপি বিতর্ক: আপেল ও কমলার তুলনা কেন নয়?
বার্তা ডেস্কঃ
চলতি অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকে (এপ্রিল-জুন) ভারতের প্রকৃত জিডিপি (Real GDP) ৭.৮ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্বজুড়ে অস্থির ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেও ভারতের এই অগ্রগতি নজরকাড়া হলেও, তা নিয়ে নতুন বিতর্ক দানা বেঁধেছে। বিরোধীদের অভিযোগ, গত বছরের জিডিপি-র অঙ্ক কমিয়ে দেখিয়ে চলতি বছরের বৃদ্ধির হার কৃত্রিমভাবে বেশি দেখানো হচ্ছে। বুধবার সরকারের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ সম্পূর্ণ খারিজ করে দিয়ে সমালোচকদের হিসেব কষার পদ্ধতিকেই ‘ত্রুটিপূর্ণ’ বলে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান ও কর্মসূচি রূপায়ণ মন্ত্রকের সচিব সৌরভ গর্গ জানান, পুরোনো ও নতুন সিরিজের তথ্য পাশাপাশি রেখে তুলনা করা একেবারেই ভুল পদ্ধতি। এটি যেন “আপেল আর কমলালেবুর মধ্যে তুলনা করার মতো।”
এই বিতর্কের সূত্রপাত প্রাক্তন অর্থসচিব সুভাষ চন্দ্র গর্গের একটি মন্তব্য থেকে। তাঁর দাবি ছিল, গত বছরের জিডিপি যদি ৮৬ লক্ষ কোটি টাকার জায়গায় ৮০ লক্ষ কোটি টাকা না দেখানো হতো, তবে বর্তমান দামে (Current Price) প্রথম ত্রৈমাসিকের বৃদ্ধির হার দাঁড়াত প্রায় ২.৬ শতাংশ।
এই বক্তব্যের পাল্টা জবাবে পরিসংখ্যান মন্ত্রকের সচিব জানান, প্রকৃত জিডিপি বৃদ্ধি সবসময় নির্দিষ্ট ভিত্তিবর্ষ ধরে অর্থাৎ ‘কনস্ট্যান্ট প্রাইস’ (Constant Price)-এ হিসেব করা হয়, বর্তমান দামে নয়। তাছাড়া, ৮৬.০৫ লক্ষ কোটি টাকার হিসেবটি ছিল ২০১১-১২ ভিত্তিবর্ষের পুরোনো সিরিজের। ২০২২-২৩ ভিত্তিবর্ষের ওপর ভিত্তি করে তৈরি নতুন সিরিজ চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে চালু হওয়ার পর পুরোনো হিসেব আর কার্যকর নয়।
নতুন সিরিজে পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন নতুন তথ্য ও পরিসংখ্যান যুক্ত হওয়ার কারণেই পরিসংখ্যান সংশোধিত হয়ে ৮০ লক্ষ কোটি টাকায় দাঁড়ায়। কেন্দ্রের দাবি, এই সংশোধন বৃদ্ধির হার বাড়াতে করা হয়নি; বরং নতুন ভিত্তিবর্ষ, উন্নত তথ্যসূত্র এবং নতুন শিল্পোৎপাদন ও মূল্যসূচক যুক্ত করার ফলেই এই স্বাভাবিক পরিবর্তন।
একই সিরিজের তথ্য ও কনস্ট্যান্ট প্রাইসের ওপর ভিত্তি করে হিসাব করায় ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকে ভারতের জিডিপি বৃদ্ধি যে প্রকৃতপক্ষে ৭.৮ শতাংশই হয়েছে, তা স্পষ্ট করেছে মন্ত্রক। পাশাপাশি ইস্পাত, সিমেন্ট এবং অটোমোবাইল শিল্পে জোরদার উৎপাদনই এই অর্থনেতিক প্রবৃদ্ধির বাস্তব প্রমাণ বলে কেন্দ্র দাবি করেছে।