জগন্নাথের মন্দিরে ইঁদুর-আরশোলার দৌরাত্ম্য, পোশাক ধ্বংসের ঘটনায় তোলপাড়!
বার্তা ডেস্কঃ
September 4, 202612:33 pm
পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে তৈরি হয়েছে এক আজব বিড়ম্বনা। দেবস্থানে ইঁদুর এবং আরশোলার উপদ্রবে নাস্তানাবুদ অবস্থা সেবায়েত ও মন্দির কর্তৃপক্ষের। ভগবানকে নিবেদন করার কিছুক্ষণের মধ্যেই উধাও হয়ে যাচ্ছে ফুল। এমনকী জগন্নাথ, সুভদ্রা ও বলরামের পোশাক কেটেকুটে ফুটো করে দিচ্ছে ইঁদুরেরা। গর্ভগৃহে ঢোকা ভক্তদের পায়ের পাতায় অদ্ভুত সুড়সুড়ির মতো অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখেও পড়তে হচ্ছে।
দ্বাদশ শতাব্দীর এই প্রাচীন মন্দিরে ইঁদুর ও আরশোলার এই উপদ্রব নতুন নয়, তবে কোভিডের সময় থেকে তা মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। দেবস্থানে জীবহত্যা মহাপাপ হওয়ায় ইঁদুর বা আরশোলা মেরে ফেলা সম্ভব নয়। তাই তাদের জ্যান্ত ধরার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
সমস্যা সমাধানে মন্দির প্রশাসনের বিশেষ পদক্ষেপ:
- ইঁদুর দমন: মন্দিরের বিভিন্ন জায়গায় এবং গর্ভগৃহে বিশেষ কল বা ফাঁদ পাতা হয়েছে। ইতিমধ্যেই বেশ কিছু ইঁদুর ধরাও পড়েছে।
- আরশোলা দমন: আরশোলা ধরতে মাটির বাসনের গায়ে চিটেগুড় ও আঠালো পদার্থ মাখিয়ে রাখা হচ্ছে, যাতে সেগুলি এসে সেঁটে যায় কিন্তু মারা না যায়। এরপর ধৃত ইঁদুর ও আরশোলাগুলিকে জনবসতি থেকে দূরে নিরাপদ স্থানে ছেড়ে দেওয়া হবে।
- এএসআই-এর সাহায্য: আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া (ASI)-এর সঙ্গে কথা বলে মন্দিরে ইঁদুর-আরশোলা প্রবেশের সমস্ত সম্ভাব্য রাস্তা বন্ধ করার কাজ চলছে। এছাড়া এই সমস্যা মোকাবিলার জন্য বিশেষ কয়েকজন সেবায়েতকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
শ্রীজগন্নাথ টেম্পল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (SJTA)-এর চিফ অ্যাডমিনিস্ট্রেটর অরবিন্দ পঢ়ি এবং পুরীর জেলাশাসক দিব্যজ্যোতি পরিদার নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পরই এই কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আগে মন্দিরে বাঁদর ও পায়রার উপদ্রব নিয়ন্ত্রণেও অনুরূপ অহিংস পদ্ধতি গ্রহণ করেছিল প্রশাসন।