খাড়গে ইস্যুতে উত্তাল কংগ্রেস, ২০২৭-এর সমীকরণ বদলাতে মাঠে নামলেন নিতিন নবীন!
বার্তা ডেস্কঃ
September 5, 202611:00 am
মল্লিকার্জুন খাড়গের জনসভাকে কেন্দ্র করে ‘শুদ্ধিকরণ’ বিতর্কে উত্তপ্ত উত্তরাখণ্ডের রাজনীতি। এই ঘটনাকে ঘিরে যখন দেশজুড়ে কংগ্রেস নেতৃত্ব প্রতিবাদে সরব, ঠিক তখনই ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনের সলতে পাকাতে ময়দানে নেমে পড়েছে বিজেপি।
সংগঠন মজবুত ও রাজনৈতিক সমীকরণ নিজেদের পক্ষে আনতে আগামী ৯ সেপ্টেম্বর দুই দিনের সফরে উত্তরাখণ্ড পৌঁছাচ্ছেন বিজেপির হেভিওয়েট নেতা নিতিন নবীন। সফরের প্রথম দিন হলদওয়ালিতে রাজ্য কোর কমিটির বৈঠকে যোগ দিয়ে বুথ স্তরের ব্যবস্থাপনা ও নির্বাচনী রণকৌশল নিয়ে আলোচনা করবেন তিনি। পরদিন, ১০ সেপ্টেম্বর রুদ্রপুরে প্রাক্তন সেনাকর্মীদের এক জনসভায় ভাষণ দেবেন এবং শিখ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বিশেষ বৈঠকে অংশ নেবেন।
বিতর্কের সূচনা হয়েছিল খাড়গের সভার পর আয়োজিত তথাকথিত ‘শুদ্ধিকরণ’ অনুষ্ঠানকে ঘিরে। কংগ্রেসের দাবি, এটি দলিত সম্প্রদায়ের জন্য অত্যন্ত অপমানজনক এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের বরখেলাপ। এই ইস্যুতে এফআইআর দায়ের না হওয়ার অভিযোগ তুলে রাজ্যজুড়ে আন্দোলনের পথ বেছে নিয়েছে দলটি। এমনকি বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডার কাছেও লিখিত অভিযোগ পাঠিয়েছে তারা।
পাল্টা জবাবে সব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে বিজেপি। শাসকদলের দাবি, মূল উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড থেকে সাধারণ মানুষের দৃষ্টি ঘোরাতে বিরোধী দল কৃত্রিম বিতর্ক তৈরি করছে। দলীয় সূত্রে জানানো হয়েছে, স্থানীয় দলিত সম্প্রদায়ের মানুষ কেবল তাঁদের নিজস্ব প্রথা ও আচার পালন করেছিলেন, যাকে রাজনৈতিক রং দেওয়া হচ্ছে।
উত্তরাখণ্ডের জনমিতি অনুযায়ী, রাজ্যে প্রায় ১৮.৯ শতাংশ তফসিলি জাতি এবং ১৪ শতাংশ মুসলিম ভোটার রয়েছেন। অর্থাৎ, এই ৩৩ শতাংশ সামাজিক ভোট ব্যাংকই যে কোনো নির্বাচনের আসল গতিপথ ঠিক করে। ২০২২ সালের নির্বাচনে বিজেপি ৪৪.৩ শতাংশ এবং কংগ্রেস ৩৭.৯ শতাংশ ভোট পেয়েছিল। মাত্র ৬.৪ শতাংশের এই পার্থক্য ইঙ্গিত দেয় যে ২০২৭-এর লড়াই কতটা কঠিন হতে যাচ্ছে। নিতিন নবীনের এই সফর কি বিজেপির পালে হাওয়া দেবে, নাকি ‘শুদ্ধিকরণ’ বিতর্কেই ধাক্কা খাবে শাসক দল—এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।