গড়িয়ার আবাসনে অধ্যাপক দম্পতির রহস্যজনক পরিণতি এবং পলাতক স্বামী
গড়িয়া স্টেশন সংলগ্ন একটি অভিজাত আবাসন থেকে উদ্ধার হয়েছে এক মহিলার নিথর দেহ, যা নিয়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার নরেন্দ্রপুর থানা এলাকায়। পুলিশ সূত্রে খবর, মৃত মহিলার স্বামী পেশায় একজন অধ্যাপক। ঘটনার পর থেকেই তিনি নিখোঁজ থাকায় প্রাথমিক সন্দেহের তির তাঁর দিকেই। রবিবার সকালে পুলিশ পৌঁছে ফ্ল্যাটের একটি ঘর থেকে মহিলার মরদেহ উদ্ধার করে, যখন পাশের ঘরেই ঘুমিয়ে ছিল তাঁদের অসুস্থ সন্তান।
রহস্যজনক আচরণ ও প্রতিবেশীদের বয়ান
তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, অধ্যাপক দম্পতি গত চার বছর ধরে ওই আবাসনে বসবাস করলেও তাঁরা ছিলেন চরম অন্তর্মুখী। প্রতিবেশীদের সাথে তাঁদের আলাপচারিতা বা মেলামেশা ছিল নগণ্য। ঘটনার দিন ওই ফ্ল্যাট থেকে কোনো চিৎকার বা ধস্তাধস্তির শব্দ পাওয়া না গেলেও, অধ্যাপকের আকস্মিক অন্তর্ধান বিষয়টিকে খুনের মামলার দিকে মোড় দিয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, পারিবারিক কোনো অশান্তি থেকেই এই চরম সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে থাকতে পারে।
তদন্ত ও সম্ভাব্য প্রভাব
প্রাথমিকভাবে একে শ্বাসরোধ করে খুন বলে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশ মহিলার দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে এবং অভিযুক্ত অধ্যাপকের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে। অসুস্থ সন্তানের উপস্থিতিতে এই ধরনের অপরাধ সমাজে নৈতিক অবক্ষয় ও উচ্চবিত্ত শিক্ষিত পরিবারের অভ্যন্তরীণ মানসিক চাপের বিষয়টি আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলেই মৃত্যুর প্রকৃত সময় ও কারণ স্পষ্ট হবে।
এক ঝলকে
- গড়িয়া স্টেশন সংলগ্ন আবাসন থেকে এক মহিলার মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে।
- অভিযুক্ত অধ্যাপক স্বামী বর্তমানে পলাতক এবং পুলিশের প্রধান সন্দেহভাজন।
- দম্পতির অসুস্থ সন্তানটি ঘটনার সময় ফ্ল্যাটের অন্য ঘরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছিল।
- দীর্ঘদিনের একাকীত্ব ও প্রতিবেশীদের সাথে মেলামেশা না করা দম্পতির ব্যক্তিগত জীবনের জটিলতা বাড়িয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।