টানা ট্রোলিংয়ের মাঝেই দেশ ছাড়লেন রাজ চক্রবর্তী এবং বিবাহবার্ষিকীতে শুভশ্রীর সঙ্গে কাটছে একান্ত মুহূর্ত!
নির্বাচনী বিপর্যয় ও ক্রমাগত সামাজিক মাধ্যমে কটাক্ষের শিকার হওয়ার পর এক প্রকার নিভৃতেই দেশ ছাড়লেন টলিউড পরিচালক রাজ চক্রবর্তী। সঙ্গে রয়েছেন স্ত্রী তথা অভিনেত্রী শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়। তবে এটি কোনো স্থায়ী প্রস্থান নয়, বরং দাম্পত্য জীবনের আট বছর পূর্তি উদযাপন করতেই এই বিদেশ সফর। শুভশ্রীর সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত একগুচ্ছ ছবি ঘিরে বর্তমানে টলিপাড়ায় জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
ক্রাবিতে একান্তে সময় ও অষ্টম বিবাহবার্ষিকী
রাজ-শুভশ্রীর সম্পর্কের শুরু হয়েছিল ২০১৬ সালে ‘অভিমান’ ছবির সেটে। এরপর ২০১৮ সালের ১১ মে বাওয়ালি রাজবাড়িতে ধুমধাম করে বিয়ের পিঁড়িতে বসেন তাঁরা। সেই হিসেবেই ১১ মে ছিল তাঁদের অষ্টম বিবাহবার্ষিকী। বিশেষ এই দিনটি উদযাপনের জন্য তাঁরা বেছে নিয়েছেন থাইল্যান্ডের মনোরম সমুদ্রতট ক্রাবি-কে। শুভশ্রী সামাজিক মাধ্যমে রাজের সঙ্গে আদুরে মুহূর্তের ছবি শেয়ার করে লিখেছেন, ‘হ্যাপি অষ্টম, সঙ্গী!’ ছবিতে ক্যান্ডেললাইট ডিনার থেকে শুরু করে সমুদ্রের ধারে একান্ত মুহূর্ত ধরা পড়লেও, তাঁদের দুই সন্তান ইউভান ও ইয়ালিনিকে এই সফরে দেখা যায়নি।
রাজনীতি বিদায় ও ট্রোলিংয়ের প্রেক্ষাপট
গত ৪ মে নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই রাজ চক্রবর্তীর সময়টা খুব একটা ভালো যাচ্ছে না। গণনা কেন্দ্র থেকে বেরোনোর সময় তাঁকে কাদা ছোঁড়া এবং অপমানজনক স্লোগানের শিকার হতে হয়েছে বলে খবর। এরপরই রাজ রাজনীতি ছাড়ার বড় ঘোষণা দেন। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, রাজনীতি তাঁর ক্ষেত্র নয় এবং তিনি আবার সিনেমা পরিচালনাতেই মনোনিবেশ করতে চান। নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলার পাশাপাশি শুভশ্রীর পোস্টে নেতিবাচক মন্তব্যের কারণে কমেন্ট সেকশনও ‘লিমিটেড’ করে দেওয়া হয়েছে।
মূলত রাজনৈতিক পরাজয় এবং ব্যক্তিগত আক্রমণের মানসিক চাপ থেকে সাময়িক মুক্তি পেতেই রাজ-শুভশ্রীর এই বিদেশ যাত্রা বলে মনে করা হচ্ছে। একদিকে যেমন তাঁরা নিজেদের দাম্পত্যের বিশেষ দিনটি পালন করছেন, তেমনই রাজনীতির তিক্ততা সরিয়ে রাজ ফের তাঁর পুরনো গ্ল্যামার দুনিয়ায় ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে বিদেশের মাটিতেও সামাজিক মাধ্যমের একাংশের কটাক্ষ তাঁদের পিছু ছাড়েনি। এই বিরতি রাজের ক্যারিয়ারে এবং মানসিকতায় নতুন কোনো মোড় নিয়ে আসে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।