মহাকাশ বিজ্ঞানে চমক, শিক্ষায় বিপ্লব ঘটিয়ে জাতীয় পুরস্কার পেলেন ৪৮ শিক্ষক!

বার্তা ডেস্কঃ

শিক্ষক দিবস উপলক্ষে নয়া দিল্লির বিজ্ঞান ভবনে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে দেশের ৪৮ জন কৃতি শিক্ষকের হাতে ‘জাতীয় শিক্ষক পুরস্কার ২০২৬’ তুলে দিলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। মূলত শিক্ষার মানোন্নয়ন, পঠনপাঠনে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং অনন্য সামাজিক অবদানের স্বীকৃতি হিসেবেই এই সম্মান প্রদান করা হয়। পুরস্কৃতদের তালিকায় ২৭টি রাজ্য, ৭টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল ও কেন্দ্র সরকারের ৬টি সংস্থার প্রতিনিধি হিসেবে ২৬ জন পুরুষ ও ২২ জন শিক্ষিকা রয়েছেন।

শিক্ষাক্ষেত্রে বিপ্লব আনা কয়েকজন কৃতী শিক্ষকের অনুপ্রেরণাদায়ক কীর্তি:

  • রাজেশ বরদলৈ (আসাম): জোরহাটের এই শিক্ষক প্রথম প্রজন্মের মিশিং উপজাতীয় শিক্ষার্থীদের জন্য তথ্যপ্রযুক্তি ও বহুভাষিক শিক্ষাপদ্ধতি চালু করেছেন। তাঁর ‘ইচ ওয়ান টিচ ওয়ান’ প্রকল্পের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিজেদের মায়েদের ডিজিটাল স্বাক্ষর করে তুলছে। পাশাপাশি বাল্যবিবাহ রোধেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।
  • মহাদেব হনমন্ত শিন্ডে (গোয়া): গত ২৯ বছর ধরে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের নিয়ে কাজ করছেন। তিনি স্কুলে হাইড্রোথেরাপি ও ট্যাবলেটভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করেছেন। তাঁর অধীনে প্রশিক্ষণ নিয়ে এই শিক্ষার্থীরা অলিম্পিকেও একাধিক পদক জয় করেছে।
  • নীতিনকুমার মহেন্দ্রকুমার পাঠক (গুজরাট): আদিবাসী অঞ্চলের একটি সরকারি স্কুলে গড়ে তুলেছেন ৭D VR/AR ল্যাব ও জার্নালিজম স্টুডিও। তাঁর তৈরি ‘কিউআর কোড বুক’ ও ‘টাচেবল পিডিএফ’ থেকে ১ লক্ষেরও বেশি ছাত্রছাত্রী উপকৃত হয়েছে।
  • দিব্যেন্দু সেন (রাজস্থান): জীববিদ্যার এই শিক্ষক এআই (AI) ও ভার্চুয়াল ল্যাবের সাহায্যে শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহী করে তুলেছেন। তাঁর নির্দেশনায় নাসার ‘অ্যাস্টারয়েড সার্চ ক্যাম্পেইন’-এ অংশ নিয়ে শিক্ষার্থীরা ১২টি গ্রহাণু আবিষ্কার করেছে।
  • মঞ্জরী ভি মহাজন (হিমাচল প্রদেশ): বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও জল সংরক্ষণে বিশেষ জোর দিয়ে নিজের বিদ্যালয়কে ‘পরিবেশ লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড’ এনে দিয়েছেন।
  • রঞ্জন দেবনাথ (ত্রিপুরা): স্মার্ট ক্লাসরুম ও ইকো-ক্লাবের মাধ্যমে গ্রামীণ উপজাতীয় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় আগ্রহী করে তুলেছেন।
  • সুমন গোয়েল (দিল্লি) ও পূর্ণিমা মোহনলাল প্যাটেল (দামান): কম খরচে শিক্ষণ উপকরণ ও তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে পঠনপাঠনকে আরও সহজ ও সবার জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক করে তুলেছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *