২০২৬ সালে কি ভারতের আকাশ থেকে আগুন ঝরবে!
২০২৬ সালে ভারতকে নজিরবিহীন দাবদাহ এবং বৈরী আবহাওয়ার চরম পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার (WMO) সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণায়নের প্রভাবে সৃষ্ট ‘এল নিনো’ চক্র আবার সক্রিয় হয়ে ওঠার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে দক্ষিণ এশিয়ার এই জনপদে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি তাপমাত্রা বৃদ্ধির ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
এল নিনো ও মৌসুমি বায়ুর সংকট
এল নিনোর প্রভাবে সাধারণত প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্যাঞ্চল ও পূর্বাংশের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। জলবায়ুর এই পরিবর্তনের সরাসরি প্রভাব পড়ে ভারতীয় মৌসুমি বায়ুর ওপর। পূর্বাভাস যদি সঠিক প্রমাণিত হয়, তবে ২০২৬ সালে ভারতে মৌসুমি বৃষ্টিপাতের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে। পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ার কারণে দেশের কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি তীব্র জলসংকট দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
জনস্বাস্থ্য ও অর্থনীতির ওপর প্রভাব
তাপমাত্রা অতিরিক্ত বৃদ্ধি পাওয়ায় জনজীবনে তাপজনিত অস্বস্তি বা ‘হিট স্ট্রেস’ মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। বিশেষ করে শ্রমজীবী মানুষ এবং বয়স্কদের জন্য এই আবহাওয়া চরম স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করবে। এছাড়া এল নিনোর কারণে খরা পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে খাদ্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে, যা সরাসরি দেশের মুদ্রাস্ফীতি এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
এক ঝলকে
- ২০২৬ সালে ভারতে ভয়াবহ তাপপ্রবাহ এবং এল নিনোর প্রত্যাবর্তনের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
- প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণায়নের ফলে মৌসুমি বৃষ্টিপাত স্বাভাবিকের চেয়ে অনেকটা কম হতে পারে।
- এই বৈরী আবহাওয়ার কারণে কৃষিখাত ও জনস্বাস্থ্যে বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে।
- পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগাম জলবায়ু অভিযোজন ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে।