লাখ টাকার চাকরি ছেড়ে প্রতারণার ফাঁদ, চন্দননগরে পুলিশের জালে ১২ ইঞ্জিনিয়ার!
বার্তা ডেস্কঃ
নামী আইটি (IT) সংস্থার মোটা মাইনের চাকরি ছেড়ে অপরাধের অন্ধকার জগতে পা বাড়িয়েছিলেন হুগলির উত্তরপাড়ার এক যুবক। অবশেষে চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটের সাইবার অপরাধ দমন শাখার জালে ধরা পড়লেন সেই প্রাক্তন ইঞ্জিনিয়ারসহ মোট ১২ জন। মঙ্গলবার একযোগে অভিযান চালিয়ে এই আন্তঃরাজ্য সাইবার জালিয়াতি চক্রের মূল মাথাদের পাকড়াও করেন তদন্তকারীরা।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত ওই যুবক শহরের একটি স্বনামধন্য কলেজ থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করে উচ্চপদস্থ আইটি সংস্থায় কর্মরত ছিলেন। আর্থিক কোনো অভাব না থাকা সত্ত্বেও বেশি উপার্জনের লোভে চাকরি ছেড়ে সাইবার অপরাধে জড়িয়ে পড়েন তিনি। সম্প্রতি একের পর এক প্রতারণার অভিযোগ জমা পড়তেই তদন্তে নামে চন্দননগর সাইবার থানা। ধৃতদের গোপন ডেরা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে একাধিক ব্যাংকের নথি, প্যান কার্ড, ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড, পাশবই, চেকবই, ৩টি স্মার্টফোন এবং ৭টি সিম কার্ড।
প্রতারণার কৌশল: তদন্তকারীদের দাবি, অপরাধীরা ঠিক ‘জামতাড়া গ্যাং’-এর কায়দায় জাল বিছিয়েছিল। মোবাইলে বা হোয়াটসঅ্যাপে ভুয়ো লিঙ্ক পাঠিয়ে এবং সাহায্য করার ছলে সাধারণ মানুষকে ফাঁদে ফেলত তারা। এরপর নিমেষেই অ্যাকাউন্ট থেকে খালি করে দেওয়া হতো টাকা। কেবল পশ্চিমবঙ্গ নয়, গোটা দেশজুড়েই ছড়িয়ে ছিল এই চক্রের নেটওয়ার্ক।
চন্দননগর পুলিশের ডিসি (ডিডি) রূপান্তর সেনগুপ্ত জানিয়েছেন, “ধৃতরা বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা হলেও তাদের কাজের ধরন ছিল একই। তদন্তের স্বার্থে এখনই কারও নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হচ্ছে না।”
এই চক্রের সঙ্গে আর কারা যুক্ত এবং কত টাকার কারচুপি হয়েছে, তা জানতে ধৃতদের নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জেরা শুরু করেছে পুলিশ।