মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের আঁচ, ১০০ ডলার ছাড়াল তেলের দাম!
বার্তা ডেস্কঃ
পশ্চিম এশিয়ার ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনা ও মার্কিন-ইরান রক্তক্ষয়ী সংঘাতের সরাসরি ধাক্কা লাগল বিশ্ব অর্থনীতিতে। আন্তর্জাতিক বাজারে অশোধিত তেলের (Crude Oil) দাম ছয় সপ্তাহের ব্যবধানে ফের ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলারের গণ্ডি অতিক্রম করেছে। বুধবার লেনদেনের শুরুতেই বিশ্ববাজারের অন্যতম প্রধান মানদণ্ড ‘ব্রেন্ট ক্রুড’-এর দাম ২.৩ শতাংশ বেড়ে ঠিক ১০০ ডলারে পৌঁছায়। পাশাপাশি মার্কিন ক্রুড অয়েলের দাম ১.৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেল প্রতি ৯৪ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে।
এই অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির পেছনে রয়েছে সাম্প্রতিক সামরিক উত্তাপ। মার্কিন যুদ্ধজাহাজে হামলার চেষ্টার কঠোর জবাবে আমেরিকান বাহিনী ইরানের অন্তত পাঁচটি তেলের ট্যাঙ্কার ধ্বংস করে দেয়। অন্যদিকে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের জাজান শোধনাগারসহ একাধিক তেল কেন্দ্রে ভয়াবহ ড্রোন ও রকেট হামলা চালায়। ফলে আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা চরম নিরাপত্তাহীনতায় পড়েছে।
চলতি বছরে তেলের আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যাপক ওঠানামা লক্ষ্য করা গেছে। মার্চে রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের সময় দাম ১০০ ডলার ছুঁলেও, হরমুজ প্রণালী চলাচলের জন্য উন্মুক্ত থাকায় জুন মাসে দর কমে ৭২ ডলারে নামে। কিন্তু সংঘাত আবার উস্কে ওঠায় জুলাইয়ে দাম ফের ১০০ ডলারে ওঠে এবং মঙ্গলবারের বোমাবর্ষণের পর তা রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছায়। চয়েস ব্রোকিংয়ের অ্যানালিস্ট পিঙ্কি যাদব জানান, হরমুজ প্রণালীর সংঘাত এবং ভারতের মাল্টি কমোডিটি এক্সচেঞ্জে (MCX) তেলের দর ২.৩২ শতাংশ বাড়ায় সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে। এমনকি চিনও বিকল্প হিসেবে আফ্রিকার তেলের দিকে ঝুঁকছে, যা দাম বাড়াতে অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে।
বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের হৃৎপিণ্ড পারস্য উপসাগরের সংকীর্ণ ‘হরমুজ প্রণালী’। তেহরান এই প্রণালীর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ দাবি করায় বাণিজ্য পথ নিরাপদ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, তেল উৎপাদন এবং পরিবহণ ব্যবস্থায় এই স্থবিরতা বজায় থাকলে বিশ্বজুড়ে জোগানে মারাত্মক ঘাটতি দেখা দেবে। আর এই দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের খেসারত শেষ পর্যন্ত দিতে হবে বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি সাধারণ মানুষকে—পেট্রোল-ডিজেলের দাম লাফিয়ে বাড়ার পাশাপাশি যা সরাসরি আঘাত হানবে মধ্যবিত্তের পকেটে।