নবমীতে কচি পাঁঠার ঝোল! দিলীপ-শমীকদের তোয়াক্কা না করেই রাজ্যে ‘বাগেশ্বর বাবা’?
বার্তা ডেস্কঃ
September 10, 20266:34 pm
দুর্গাপুজোয় আমিষ খাওয়া নিয়ে স্বঘোষিত ধর্মগুরু ধীরেন্দ্র কৃষ্ণ শাস্ত্রী ওরফে ‘বাগেশ্বর বাবা’র মন্তব্যকে ঘিরে ইতিমধ্যেই তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। সাধারণ বাঙালির ক্ষোভের পাশাপাশি একাধিক থানায় এফআইআর পর্যন্ত দায়ের হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। পরিস্থিতি সামাল দিতে রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বও দ্রুত সেই বিতর্ক থেকে নিজেদের দূরত্ব বজায় রেখেছিল। কিন্তু সেই উত্তাপের মধ্যেই নতুন করে জল্পনা বাড়িয়ে বাগেশ্বর বাবাকে ফের বাংলায় আনার খোলাখুলি ঘোষণা করলেন জঙ্গিপুরের বিজেপি বিধায়ক চিত্ত মুখোপাধ্যায়।
সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বিজেপি বিধায়ক স্পষ্ট জানান, দুর্গাপুজোর পরেই জঙ্গিপুরে বাগেশ্বর মহারাজ ও কার্তিক মহারাজকে এনে একটি বিশাল কর্মসূচির আয়োজন করতে চলেছেন তিনি। একই সঙ্গে বিরোধীদের উদ্দেশ্যে তাঁর হুঁশিয়ারি, “আমরা কাউকে আগে আক্রমণ করব না, কিন্তু আমাদের ওপর কোনো আক্রমণ হলে ছেড়ে কথা বলব না।”
আমিষ বিতর্কের সূত্রপাত সম্প্রতি বাংলায় এক মঞ্চ থেকেই ভক্তদের উদ্দেশ্যে বিতর্কিত প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছিলেন ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী। দুর্গাপুজোর সময় মাংসের দোকান বন্ধের পক্ষে সওয়াল করে তিনি উৎসবের সময় মাংস রান্নার তীব্র বিরোধিতা করেন। তাঁর এই মন্তব্যের পরই সোশ্যাল মিডিয়া থেকে রাজপথ— সর্বত্রই জোরালো প্রতিবাদের ঝড় ওঠে।
দলের অস্বস্তি ও শীর্ষ নেতৃত্বের অবস্থান বাঙালি আবেগে আঘাত লাগায় তড়িঘড়ি জল মাপতে নামে বঙ্গ বিজেপি। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট বার্তা দিয়ে জানান, এটি বাগেশ্বর বাবার ব্যক্তিগত মত হতে পারে, কিন্তু বাঙালি দুর্গাপুজোর নবমীতে কচি পাঁঠার মাংসই খাবে। দিলীপ ঘোষ, সজল ঘোষ ও অগ্নিমিত্রা পালের মতো নেতারাও প্রকাশ্যে ধর্মগুরুর দাবির বিরোধিতা করেন।
তবে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব যেখানে পুজোর মুখে এই বিতর্ক এড়িয়ে যেতে চাইছে, সেখানে দাঁড়িয়ে স্থানীয় বিজেপি বিধায়কের এই তোড়জোড় বঙ্গ বিজেপির অভ্যন্তরে নতুন করে রাজনৈতিক অস্বস্তি তৈরি করল বলেই মনে করছে সচেতন মহল।