নদীর স্রোতে নাতিকে বাঁচাতে শেষ মুহূর্তের লড়াই! নারায়ণগড়ে তুলকালাম কাণ্ড
বার্তা ডেস্কঃ
September 10, 20267:34 pm
বেলদা: বর্ষায় ভেঙে গিয়েছে নদী পারাপারের একমাত্র ভরসা বাঁশের সাঁকো। চরম ঝুঁকি নিয়ে গলাভর্তি জলে হেঁটে পার হতে গিয়ে ঘটল মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। কেলেঘাই নদীর প্রবল স্রোতে তলিয়ে গেলেন ৬০ বছর বয়সী প্রৌঢ় সূর্য কোটাল। তবে ভেসে যাওয়ার ঠিক আগের মুহূর্তেও জীবন বাজি রেখে একরত্তি নাতিকে নিরাপদে পাড়ে ঠেলে দেন তিনি। হৃদয়বিদারক এই ঘটনাটি ঘটেছে নারায়ণগড়ের আমডিহা এলাকায়।
মাঝ নদীতে তীব্র স্রোত, প্রাণপণ লড়াই দাদুর স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ৯ সেপ্টেম্বর দুপুরে স্ত্রী চায়না কোটাল ও নাতি সঞ্জয় নায়েককে সঙ্গে নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন সূর্য কোটাল। আমডিহা এলাকায় কেলেঘাই নদীর ওপর থাকা বাঁশের সাঁকোটি আগেই বর্ষার জলে ভেসে গিয়েছিল। ফলে বাধ্য হয়েই গলাভর্তি জল পার হয়ে যাতায়াত করছিলেন স্থানীয়রা।
অন্যান্য দিনের মতোই নাতিকে আঁকড়ে ধরে নদীতে নামেন সূর্যবাবু। কিন্তু মাঝ নদীতে পৌঁছতেই জলের তোড়ে নিয়ন্ত্রণ হারায় ছোট্ট নাতি। বিপদের ভয়াবহতা বুঝে নিজের তোয়াক্কা না করে সমস্ত শক্তি দিয়ে নাতিকে নিরাপদ পাড়ের দিকে ঠেলে দেন তিনি। নাতি বেঁচে গেলেও প্রবল স্রোতের সঙ্গে আর লড়াই করতে পারেননি বৃদ্ধ। চোখের সামনেই সূর্যবাবুকে তলিয়ে যেতে দেখে চিৎকার করে ওঠেন স্ত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
তল্লাশি অভিযান ও প্রশাসনিক ক্ষোভ ঘটনার খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় নারায়ণগড় থানার পুলিশ। নামানো হয়েছে বিপর্যয় মোকাবিলা দল। স্পিডবোট নিয়ে নদীজুড়ে শুরু হয়েছে তল্লাশি অভিযান।
এদিকে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর থেকেই ক্ষোভে ফুঁসছে আমডিহা গ্রাম। দীর্ঘদিনের দাবি উপেক্ষা করার ফলেই আজ এই দুর্ঘটনা—এই অভিযোগে বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকেই কেলেঘাই নদীর ওপর স্থায়ী কংক্রিটের সেতু নির্মাণের দাবিতে নদীপাড়ে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা।