ধর্মীয় মাঠে রাজনৈতিক সভা নয়, মমতার কর্মসূচিতে আদালতের কড়া নিষেধাজ্ঞা!
বার্তা ডেস্কঃ
September 11, 20268:33 am
কলকাতা: হুগলির ঐতিহাসিক মাহেশের জগন্নাথদেব স্নানপিঁড়ি মাঠে তৃণমূলের সভা ঘিরে বড় আইনি ধাক্কা। রাজ্যের আপত্তির মুখে পড়ে স্থগিত হয়ে গেল তৃণমূলের পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি। বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে— ওই ধর্মীয় মাঠে আপাতত কোনো সভা করা যাবে না। আয়োজকদের বিকল্প জায়গা খুঁজে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সিঙ্গল বেঞ্চ থেকে ডিভিশন বেঞ্চ: আইনি লড়াইয়ের প্রেক্ষাপট ঘটনার সূত্রপাত মাহেশের স্নানপিঁড়ি মাঠে তৃণমূলের একটি জনসভাকে কেন্দ্র করে, যেখানে বক্তব্য রাখার কথা ছিল দলের শীর্ষ নেতৃত্বের। বৃহস্পতিবার সকালে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের সিঙ্গল বেঞ্চ শর্তসাপেক্ষে এই সভার অনুমতি দিয়েছিলেন। কিন্তু এই রায়ের বিরুদ্ধে তড়িঘড়ি প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হয় রাজ্য সরকার।
রাজ্যের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল বিল্বদল ভট্টাচার্য আদালতকে জানান, মাঠটি সম্পূর্ণরূপে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের জন্য ব্যবহৃত হয়। মাহেশের ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রার সময় এই জায়গাটির বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। রাজনৈতিক সভার জন্য পুলিশ কাউকেও জোর করতে পারে না।
মাঠ কর্তৃপক্ষের আর্জি ও আদালতের কঠোর পর্যবেক্ষণ শুধু রাজ্য সরকারই নয়, ওই মাঠের মালিকপক্ষও রাজনৈতিক সভার তীব্র বিরোধিতা করে আদালতে জানায়, কেবল ধর্মীয় ও ঐতিহ্যবাহী মেলাতেই এই মাঠ ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়। কোনো রাজনৈতিক পক্ষকে তারা মাঠ দিতে ইচ্ছুক নয়।
মামলার শুনানি শেষে প্রধান বিচারপতি ঘুগে এবং বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর ডিভিশন বেঞ্চ রাজ্যের যুক্তি গ্রাহ্য করে। আদালত পর্যবেক্ষণ করে জানায়, “যে কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি আয়োজনের আগে সাধারণ মানুষের সুবিধা-অসুবিধার কথা ভাবা উচিত। এমন স্থানেই সভা করা উচিত যাতে জনজীবন ব্যাহত না হয়।”
এই নির্দেশের পরেই শুক্রবারের প্রস্তাবিত সভা স্থগিত করতে বাধ্য হয় আয়োজকরা। নতুন কোনো বিকল্প স্থান চূড়ান্ত হওয়ার পরই সভার পরবর্তী তারিখ ঘোষণা করা হতে পারে।