সুপ্রিম কোর্টের ধাক্কায় কালীঘাট থেকে গ্রেফতার সুমিত!
বার্তা ডেস্কঃ
September 11, 20269:33 am
শালবনি জমি দুর্নীতি মামলায় বড় ধাক্কা খেলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক (পিএ) সুমিত রায়। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট তাঁর রক্ষাকবচ তুলে নেওয়ার পাশাপাশি আগাম জামিনের আবেদনও খারিজ করে দেয়। শীর্ষ আদালতের এই সিদ্ধান্তের পরপরই কালীঘাটে অভিষেকের বাড়ি থেকে সুমিত রায়কে গ্রেফতার করে রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইডি।
আদালতে রাজ্যের বিস্ফোরক যুক্তি
সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চে শুনানির সময় রাজ্যের তরফে তুষার মেহতা জানান, সুমিতের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রায় ১৫ কোটি টাকা জমা পড়েছে—যার মধ্যে কেবল জুন মাসেই জমা হয় ৭১ লক্ষ টাকা। তদন্তকারীদের প্রশ্নের মুখে সুমিত বেশিরভাগ সময়ই উত্তর এড়িয়ে গেছেন কিংবা “জানি না”, “মনে নেই” বলে এড়িয়ে গেছেন।
রাজ্যের দাবি, একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে বিপুল নগদ টাকা জমা পড়ার পর সেখান থেকে প্রায় ৩০ কোটি টাকা স্থানান্তরিত হয় ‘লিপ্স অ্যান্ড বাউন্ডস্’ নামের একটি সংস্থার অ্যাকাউন্টে। ব্যাঙ্ক নথি যাচাই করে দেখা গিয়েছে, এই লেনদেনের পেছনে যে প্যান নম্বর যুক্ত রয়েছে, সেটি সুমিতেরই।
সুমিতের আইনজীবীদের পাল্টা যুক্তি
সুমিত রায়ের পক্ষে আইনজীবী গোপালশঙ্কর নারায়ণ ও অয়ন ভট্টাচার্য দাবি করেন, তাঁর মক্কেল তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করেছেন এবং প্রায় ৮৮ ঘণ্টা সিআইডির জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হয়েছেন। অভিষেকের আপ্তসহায়ক বলেই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তাঁর বিরুদ্ধে ১১টি এফআইআর করা হয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, দলের অ্যাকাউন্টে জমা পড়া টাকার দায় সুমিতের নয়, তাঁর ব্যক্তিগত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সর্বোচ্চ ৬০ হাজার টাকা জমা পড়েছিল। তদন্তের নামে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ‘ফিশিং অ্যান্ড রোভিং ইনকোয়ারি’ চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা।
শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ ও গ্রেফতারি
উভয় পক্ষের যুক্তি এবং জিজ্ঞাসাবাদের ভিডিও রেকর্ডের লিখিত নথি খতিয়ে দেখার পর প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত মন্তব্য করেন, আদালত যথেষ্ট সুযোগ দেওয়া সত্ত্বেও সুমিত তদন্তে সহযোগিতা করেননি। বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীও পর্যবেক্ষণ প্রকাশ করে জানান, ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে নগদ না মিললেও দলের অ্যাকাউন্টে টাকা জমা ও তাতে সুমিতের প্যান নম্বরের উপস্থিতি পুরো বিষয়টিকে জটিল করে তুলেছে। এরপরই আদালত হস্তক্ষেপ করতে অস্বীকার করে রক্ষাকবচ খারিজ করে দেয়।
আদালতের নির্দেশের পরেই সিআইডির একটি প্রতিনিধি দল কালীঘাটে অভিষেকের বাড়িতে পৌঁছায়। নিরাপত্তা কর্মীদের সঙ্গে সামান্য ধস্তাধস্তির পর বাড়ি থেকে সুমিতকে গ্রেফতার করা হয়। (উল্লেখ্য, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বর্তমানে চোখের চিকিৎসার জন্য বিদেশে রয়েছেন।) সুমিতকে প্রথমে ভবানী ভবনে নিয়ে যাওয়া হয় এবং পরবর্তীতে স্বাস্থ্যপরীক্ষার জন্য এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এই গ্রেফতারি নিয়ে বিধানসভা চত্বরে সরব হন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও। সিআইডি জানিয়েছে, শালবনি মামলার পরবর্তী চার্জশিটে সুমিত রায়ের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে।