বাংলাকে অনুভব করুন নতুন রূপে!
বার্তা ডেস্কঃ
September 11, 20266:34 pm
পর্যটন মানে কেবল চোখ জুড়ানো দর্শন নয়, পর্যটন হলো স্থান আর সংস্কৃতিকে অনুভূতির অতলে ধারণ করা—এই নতুন ভাবনাকেই পাথেয় করে এগোচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন দফতর। বিদেশি পর্যটকদের আকর্ষণ করতে এবং বিশ্ব মানচিত্রে রাজ্যকে নতুনভাবে তুলে ধরতে পর্যটন মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ নিয়ে এসেছেন নতুন ট্যাগলাইন— ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল, হোয়্যার ইন্ডিয়া ফিলস ডিফরেন্ট’। প্রচলিত পর্যটন ধারার বাইরে গিয়ে জলপথ, ইতিহাস ও ধর্মীয় সার্কিটকে এক সুতোয় বাঁধার এক বিশাল মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করেছে রাজ্য।
গঙ্গার তীরে ‘লিটল ইউরোপ’ ও ঐতিহ্যের নতুন সার্কিট
বিদেশি পর্যটকদের টার্গেট করে গঙ্গার দুই তীরে গড়ে ওঠা প্রাচীন ইউরোপীয় বসতিগুলোকে নতুন করে সাজানো হচ্ছে। ডাচ, ফরাসি, ব্রিটিশ ও পর্তুগিজদের বাণিজ্যের ইতিহাস ও তাদের গড়ে তোলা নানা স্থাপত্যকে কেন্দ্র করে তৈরি হচ্ছে ‘লিটল ইউরোপ অন গ্যাঞ্জেস’। মন্ত্রী জানান, বিদেশের মানুষের কাছে তাঁদের পূর্বপুরুষদের এই ঐতিহাসিক স্মৃতি দারুণ আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হতে পারে। এর পাশাপাশি শক্তিপীঠ, গঙ্গার তীরের প্রাচীন মন্দিরসমূহ, মহিমান্বিত রাজ-রাজাদের ইতিহাস (যেমন শশাঙ্ক ও কর্ণসুবর্ণ) এবং স্বাধীনতা সংগ্রামীদের ঐতিহ্যকে একত্রে জুড়ে একটি সমন্বিত ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক সার্কিট গড়ে তোলা হচ্ছে।
ভিড় কমাতে ‘ক্যাপাসিটি রিডিস্ট্রিবিউশন’ বা ক্ষমতার পুনর্বণ্টন
ঐতিহ্যবাহী পর্যটন কেন্দ্রগুলির ওপর অতিরিক্ত চাপের কথা মাথায় রেখে দফতর নিয়েছে ‘ক্যাপাসিটি রিডিস্ট্রিবিউশন’-এর কৌশল। দার্জিলিংয়ের ওপর চাপ কমাতে তার নতুন ব্র্যান্ডিং করা হচ্ছে ‘ল্যান্ড অব টি’ হিসেবে, আর পর্যটকদের ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে কার্শিয়াং, কালিম্পং, মিরিক, দুধিয়া বা মংপঙের দিকে। একইভাবে সুন্দরবনকে কেবল ‘রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার’-এর পরিধি থেকে বের করে বিশ্বখ্যাত ‘ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট’ হিসেবে নতুন রূপে তুলে ধরা হচ্ছে।
জলপথ পর্যটন ও কর্মসংস্থানের নয়া দিগন্ত
যোগাযোগ ব্যবস্থার জট এড়াতে ও সুন্দরবন বা ইউরোপীয় সার্কিটে সহজে পৌঁছাতে ‘রিভার ট্যুরিজম’ বা জলপথ পর্যটনকে পলিসির অন্যতম প্রধান স্তম্ভ করা হয়েছে। গার্ডেনরিচ শিপবিল্ডার্স-এর সঙ্গে ইতিমধ্যেই দুটি নতুন ভেসেল তৈরির চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে এবং পর্যটকদের জন্য আলাদা জেটি নির্মাণের পরিকল্পনা চলছে।
মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দিকনির্দেশনাকে কাজে লাগিয়ে এই মজবুত ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হচ্ছে বলে জানান শঙ্কর ঘোষ। তাঁর আশা, এই পর্যটন নীতি কেবল রাজস্ব বৃদ্ধিই করবে না, ভবিষ্যতে বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি করবে।