বাঙালি কী খাবে তা কি উনি ঠিক করবেন? বাগেশ্বর বাবার মন্তব্যে তোলপাড় বাংলা!
বার্তা ডেস্কঃ
September 11, 20266:34 pm
সামনেই বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজো, আর তার ঠিক আগেই খাদ্যরসিক বাঙালির পাতে আঘাত হানাকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক। হাওড়ার লিলুয়ায় ‘হনুমান কথা’র আসর থেকে দুর্গাপুজোর সময়ে মাছ-মাংস না খাওয়ার নির্দেশ দেন মধ্যপ্রদেশের বাগেশ্বর ধামের ধর্মগুরু ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রী। তিনি স্পষ্ট জানান, পুজোয় যাঁরা আমিষ খাবেন তারা ‘পাষণ্ড’। তাঁর এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই বাঙালি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে রাজনৈতিক মহল।
রাজনীতিতে জোর বিতর্ক ও প্রতিরোধ
বাগেশ্বর বাবার এই মন্তব্যের পর রাজ্য রাজনীতিতে জোর শোরগোল শুরু হয়েছে। ড্যামেজ কন্ট্রোলে নেমে বিজেপি নেতৃত্ব তড়িঘড়ি জানিয়ে দিয়েছে, ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রীর এই বার্তা কোনোভাবেই দলের অবস্থান নয়। ধর্মগুরুর এই মন্তব্যের বিরোধিতা করে বিজেপি বিধায়ক কৌস্তুভ বাগচি তাঁকে কলকাতার বিখ্যাত ‘গোলবাড়ির মাংস’ খাওয়ানোর আহ্বান জানান। অন্যদিকে, প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে শাস্ত্রীর ছবিতে আগুন ধরানোর অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে কংগ্রেস নেতা অতনু দাসকে।
ঐতিহ্য বনাম বহিরাগত ফরমান
বাঙালির দুর্গোৎসব ও কালীপুজোয় শক্তি আরাধনার অঙ্গ হিসেবে বলির প্রসাদ ও দেবীকে মাছের ভোগ নিবেদনের প্রাচীন ঐতিহ্য রয়েছে। নবমীর দিনে মাংসের দোকানে ভিড় কিংবা উৎসবের দিনে আমিষ খাওয়া বঙ্গীয় রীতিনীতিরই অংশ। আমজনতার বক্তব্য, উৎসবের দিনগুলিতে মণ্ডপে ঢোকার ক্ষেত্রে সাধারণ জ্ঞান বাঙালির জানা আছে, তার জন্য কোনো ধর্মগুরুর বিশেষ উপদেশ বা নির্দেশের প্রয়োজন নেই। নিজের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সাথে বাঙালি যে কোনো আপোষ করবে না এবং কে কী খাবে তা কোনো বাইরের ফতোয়া দিয়ে ঠিক করা যাবে না—তা স্পষ্ট করে দিয়েছে বাংলার মানুষ।