ক্যামাক স্ট্রিট দফতর খালি করার নোটিসে স্থগিতাদেশ, স্বস্তিতে অভিষেক!
বার্তা ডেস্কঃ
September 11, 20266:34 pm
দক্ষিণ কলকাতার ক্যামাক স্ট্রিটের পার্টি অফিস খালি করার নির্দেশে আপাতত বড়সড় আইনি স্বস্তি পেলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ভবনের নিরাপত্তা ও পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা না থাকার অজুহাতে রাজ্যের দমকল দফতর যে নোটিস জারি করেছিল, তাতে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর এই মামলার পরবর্তী ও চূড়ান্ত শুনানি হবে।
দমকলের নোটিস ও বিতর্কের সূত্রপাত
ক্যামাক স্ট্রিটের বহুতলটিতে অবস্থিত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মূল কার্যালয়টি খালি করা নিয়ে বিতর্ক দীর্ঘদিনের। সম্প্রতি দমকল দফতরের পরিদর্শনের পর দাবি করা হয়, পর্যাপ্ত রক্ষণাবেক্ষণ ও ফায়ার সেফটি না থাকায় বহুতলটির ওই অংশটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। নতুন ফায়ার সেফটি শংসাপত্র (NOC) না মেলা পর্যন্ত সেটি ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। দমকলের নোটিস পাওয়ার পরই ভবনের মালিকপক্ষ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিস খালি করে দেওয়ার নির্দেশ পাঠায়।
হাইকোর্টের প্রশ্ন ও আইনি সওয়াল-জবাব
দমকল ও মালিকপক্ষের এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শুনানিতে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতির পর্যবেক্ষণ— ভবনটিতে যদি অগ্নিনিরাপত্তা সংক্রান্ত সমস্যা থেকে থাকে, তবে শুধুমাত্র ষষ্ঠ ও সপ্তম তলা কীভাবে ‘বিপজ্জনক’ হিসেবে চিহ্নিত হলো? সম্পূর্ণ বহুতলটিকে বিপজ্জনক ঘোষণা না করে নির্দিষ্ট দুটি তলার ওপর এমন কড়াকড়ি কেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলে আদালত। বিচারপতির মতে, অগ্নিনিরোধক ব্যবস্থার ত্রুটি সংশোধনের মূল দায়িত্ব ভবনের মালিকের।
মামলার সওয়ালে রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল একে ‘প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত’ বলে দাবি করেন। অন্যদিকে, ভবনের মালিকের আইনজীবী জানান যে লিজ ইতিমধ্যেই বাতিল করা হয়েছে।
১৬ সেপ্টেম্বরের শুনানির ওপর নির্ভর করছে ভবিষ্যৎ
দুই পক্ষের সওয়াল শোনার পর আপাতত অফিস খালি করার নির্দেশের ওপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। ফলে আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর চূড়ান্ত শুনানি না হওয়া পর্যন্ত ক্যামাক স্ট্রিটের এই কার্যালয় থেকেই দলীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে পারবেন তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব। সাম্প্রতিককালে পুরসভার বিলবোর্ড সরানো নিয়ে গণ্ডগোলসহ একাধিক ইস্যুতে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে থাকা এই কার্যালয়টির চূড়ান্ত ভবিষ্যৎ এখন নির্ভর করছে আদালতের পরবর্তী নির্দেশনার ওপর।