ব্রিকসে পুতিনকে ভারতের বিশেষ উপহার, কী সেই রহস্যময় বই!
বার্তা ডেস্কঃ
September 12, 202611:33 am
নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় এক অনন্য ও তাৎপর্যপূর্ণ উপহার তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। প্রাচীন তামিল মহাকাব্য ‘তিরুক্কুরাল’-এর একটি বিশেষ রুশ অনুবাদ পুতিনের হাতে সমর্পণ করে তিনি আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের সাংস্কৃতিক কূটনীতিকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেলেন।
সেন্ট্রাল ইনস্টিটিউট অফ ক্লাসিক্যাল তামিল থেকে প্রকাশিত এই বিশেষ সংস্করণে মূল তামিল শ্লোকের পাশাপাশি নাইরা মকরচিয়ানের চমৎকার রুশ অনুবাদ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মোদীর এই উপহারের নেপথ্যে রয়েছে এক গভীর ঐতিহাসিক তাৎপর্য, যা ভারত ও রাশিয়ার শতবর্ষ প্রাচীন সাহিত্যিক ও আত্মিক সম্পর্কের বন্ধনকে ফের নতুন করে উজ্জীবিত করেছে।
ভারতীয় দর্শন ও সাহিত্যের প্রতি রাশিয়ার আগ্রহের ইতিহাস বেশ পুরনো। সপ্তদশ শতাব্দী থেকেই রুশ গবেষকদের নজর কেড়েছিল ভারতের ঐতিহ্যবাহী জ্ঞানভাণ্ডার। উনবিংশ শতাব্দীতে বিশ্বখ্যাত রুশ সাহিত্যিক লেভ তলস্তয় ‘তিরুক্কুরাল’-এর দর্শনে গভীরভাবে প্রভাবিত হয়েছিলেন বলে ধরে নেওয়া হয়। এমনকী বিংশ শতাব্দীর শুরুতে মহাত্মা গান্ধী ও তলস্তয়ের মধ্যকার ঐতিহাসিক পত্রালাপগুলোতেও এই মহৎ গ্রন্থের কথা উল্লেখ ছিল। পুতিনের হাতে এই রূপান্তর তুলে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী দুই দেশের সেই পুরনো বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পর্ককে আধুনিক কূটনৈতিক বন্ধুত্বের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে যুক্ত করলেন।
প্রায় দুই হাজার বছর আগে কবি ও দার্শনিক তিরুভাল্লুভার রচিত ‘তিরুক্কুরাল’ মূলত তিনটি স্তম্ভের ওপর প্রতিষ্ঠিত— ধর্ম (আরম), অর্থ (পোরুল) এবং কাম (ইনবাম)। এর সর্বজনীন ও প্রজ্ঞাপূর্ণ বার্তা যুগে যুগে বিশ্বের বহু রাষ্ট্রনেতাকে অনুপ্রাণিত করেছে। এর আগেও প্রধানমন্ত্রী মোদি উজবেকিস্তান, পাপুয়া নিউ গিনি, থাইল্যান্ড এবং জাপানের বিশ্বনেতাদের হাতে তাঁদের স্থানীয় ভাষায় অনূদিত ‘তিরুক্কুরাল’ তুলে দিয়েছিলেন। আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রাচীন ভারতীয় জ্ঞান ও সাহিত্যিক উত্তরাধিকারকে তুলে ধরার যে ধারাবাহিক প্রচেষ্টা প্রধানমন্ত্রী চালিয়ে যাচ্ছেন, পুতিনের হাতে এই বিশেষ গ্রন্থ তুলে দেওয়া তারই এক অনবদ্য নিদর্শন।