গ্যাস বুকিং নিয়ে বড় সতর্কতা! ই-কেওয়াইসি না করালে বন্ধ হবে পরিষেবা?
বার্তা ডেস্কঃ
September 19, 202612:40 pm
কলকাতা: পুজোর উৎসবের মুখেই রান্নার গ্যাসের গ্রাহকদের জন্য বড় সতর্কবার্তা! আপনি কি এখনও এলপিজি (LPG) সংযোগের e-KYC করাননি? তবে অবিলম্বে সতর্ক হন। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের সাম্প্রতিক নির্দেশিকা অনুযায়ী, e-KYC প্রক্রিয়া সম্পন্ন না থাকলে যে কোনো মুহূর্তে ব্লক হয়ে যেতে পারে আপনার গ্যাস বুকিং অ্যাকাউন্ট।
সার্ভার ডাউন কিংবা গ্যাসে ডিস্ট্রিবিউটরের দপ্তরে দীর্ঘ লাইনের অজুহাত আর মানতে নারাজ কেন্দ্র। দেশজুড়ে তেল সংস্থাগুলিকে কড়া চিঠি পাঠিয়ে কেন্দ্র জানিয়েছে, নিয়ম না মানলে সরাসরি বন্ধ থাকবে রিফিল সিলিন্ডার বুকিং।
e-KYC না করলে কী কী সমস্যা হতে পারে?
- ব্লক হবে বুকিং অ্যাকাউন্ট: বায়োমেট্রিক প্রক্রিয়ায় যাচাইকরণ (Authentication) না হওয়া পর্যন্ত নতুন করে গ্যাস রিফিল বুক করা যাবে না।
- বন্ধ হবে সরকারি ভর্তুকি: ই-কেওয়াইসি না থাকলে সরাসরি এবং পরোক্ষ উভয় প্রকার সরকারি ভর্তুকি বন্ধ হয়ে যাবে।
- গুনতে হবে চড়া দাম: বর্তমানে ১৪.২ কেজি ঘরোয়া সিলিন্ডারের আসল দাম ১,৬৯৫ টাকা। কেন্দ্র ৭২৭ টাকা পরোক্ষ ভর্তুকি দেওয়ার পর গ্রাহকদের খরচ পড়ে ৯৬৮ টাকা (পাশাপাশি ১৯.৫৭ টাকা প্রত্যক্ষ ভর্তুকি হিসেবে অ্যাকাউন্টে ঢোকে)। e-KYC না করালে পুরো ১,৬৯৫ টাকা দিয়েই কিনতে হবে সিলিন্ডার।
ব্লক হওয়া অ্যাকাউন্ট কীভাবে চালু হবে?
অ্যাকাউন্ট ব্লক হলেও চিন্তার কিছু নেই। তেল সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, গ্রাহক পরবর্তীতে অথেনটিকেশন সম্পন্ন করে নিলেই ব্লক তুলে নেওয়া হবে। এর পর থেকে ফের আগের মতো স্বাভাবিক ৯৬৮ টাকাতেই মিলবে গ্যাস এবং ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে নিয়ম অনুযায়ী জমা হবে ভর্তুকির টাকা।
তেল সংস্থাগুলোকে ১৫ দিনের আল্টিমেটাম
পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের ডেপুটি সেক্রেটারি মোহিত কুমার আগরওয়াল স্পষ্ট জানান, অনলাইন পোর্টাল ও অ্যাপে এমন বিকল্প যুক্ত করতে হবে, যাতে e-KYC না করা গ্রাহকেরা স্পষ্ট দেখতে পান যে তাঁরা ভর্তুকি ছাড়াই বাজারদরে সিলিন্ডার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। এই নির্দেশ জারির ১৫ দিনের মধ্যে সব তেল সংস্থাকে পদক্ষেপ গ্রহণ করে বিস্তারিত ‘অ্যাকশন টেকেন রিপোর্ট’ (ATR) মন্ত্রকে জমা দিতে বলা হয়েছে।
এক নজরে বড় পরিসংখ্যান:
- দেশজুড়ে বাকি: প্রায় ৩.১৬ কোটি গ্রাহকের e-KYC এখনও সম্পূর্ণ হয়নি।
- কলকাতা ও দুই ২৪ পরগনায়: কেবল ইন্ডেন (Indane)-এর প্রায় ৬.৩৭ লক্ষ গ্রাহকের ই-কেওয়াইসি বকেয়া রয়েছে।
- অন্যান্য গ্রাহক: এর বাইরে প্রায় ৪ লক্ষ ‘পহল’ (PAHAL) গ্রাহক এবং ২.২৫ লক্ষ এমন গ্রাহক আছেন যাঁরা নিজস্ব উদ্যোগে কিংবা বার্ষিক আয় ১০ লক্ষ টাকার বেশি হওয়ায় ভর্তুকি পান না।
এত কম সময়ে বিপুল পরিমাণ মানুষের e-KYC কীভাবে শেষ হবে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও, ঝামেলা এড়াতে গ্রাহকদের দ্রুত নিকটবর্তী ডিস্ট্রিবিউটর বা অনলাইন মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া সেরে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।